আর এটি শুধু ঈদের নামাজ নিয়ে নয়; ঈদুল আজহায় পশু—ছাগল, ভেড়া বা গবাদিপশু—কোরবানির ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানকেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সঙ্গে এই হুমকিও রয়েছে, পশুর রক্ত বা বর্জ্য যদি পাবলিক ড্রেন বা রাস্তায় যায়, তবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এসব এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মুসলমানদের ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়টি টেলিভিশন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে। যখন মুসলিম পরিচয়ের প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশকে নিরাপত্তা, বৈধতা বা জনসংখ্যাগত উদ্বেগের লেন্স দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আল–জাজিরা যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছে তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মুসলিমান বলেন, বারবার ঘটা নানা বিতর্ক—যেমন হিজাব পরার অধিকার, হালাল খাবার খাওয়া, মাইকে আজান দেওয়া ইত্যাদি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে।

নয়াদিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী ফয়জান আলী আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আপনার মনে হতে শুরু করবে, আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি জিনিসই প্রশ্নের মুখে রয়েছে। এমনকি নামাজ আদায়ের আগেও আপনাকে দুবার ভাবতে হচ্ছে।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, উন্মুক্ত স্থানে মুসলমানদের নামাজ নিয়ে এই বিতর্ক ভারতের এক বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন। যেখানে মুসলমান হিসেবে দৃশ্যমান ভঙ্গিতে চলাচল বিরোধের এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ধর্ম ও পাবলিক স্পেস বিষয়ের গবেষক ও কর্মী নাদিম খান আল–জাজিরাকে বলেন, যখন একটি সম্প্রদায় তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে নামাজের জন্য প্রকাশ্যে সমবেত হতে ভয় পান, তখন এটি জনসমক্ষে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কারা সেখানে নিজেদের যোগ্য মনে করছে, তার একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।’



Source link