তবে শুধু জিন দিয়ে সবকিছু বিচার করা যায় না। আমরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারপাশের পরিবেশ কীভাবে আমাদের সঙ্গে আচরণ করছে, তার ওপরও আমাদের খাবারের পছন্দ অনেকখানি নির্ভর করে।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়া ইভান প্যাভলভ একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি একটা কুকুর নিয়ে দারুণ একটা পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন কুকুরটিকে খাবার দেওয়ার ঠিক আগে একটা ঘণ্টা বাজাতেন। কিছুদিন পর দেখা গেল, খাবার না দিয়ে শুধু ঘণ্টা বাজালেই তার মুখ দিয়ে লালা পড়তে শুরু করেছে! কারণ, কুকুরটির মস্তিষ্ক বুঝে গিয়েছিল, ঘণ্টা বাজানো মানেই সুস্বাদু খাবার আসা। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ক্ল্যাসিক্যাল কন্ডিশনিং।
আমাদের খাবারের পছন্দের ক্ষেত্রেও ঠিক এই ব্যাপারটিই ঘটে! যখন কোনো খাবার খাওয়ার সময় আমরা খুব আনন্দ পাই, মায়ের হাসিমুখ দেখি বা প্রশংসা শুনি, তখন ওই খাবারটা আমাদের প্রিয় হয়ে যায়। উল্টো দিকে, কোনো খাবার খাওয়ার সময় যদি তোমার পেটব্যথা করে, অথবা মা যদি ধমক দিয়ে বলেন, ‘সবজি না খেলে আজ তোমার টিভি দেখা বন্ধ!’, তখন তোমার মস্তিষ্ক সবজি জিনিসটাকে শাস্তি বা কষ্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে। ফলে ওই খাবারের প্রতি তোমার চরম ঘৃণা তৈরি হয়ে যায়!
আরেকটা অবাক করা তথ্য দিই। শিশুরা কিন্তু পৃথিবীতে আসার অনেক আগে, মায়ের পেটে থাকা অবস্থাতেই খাবারের স্বাদ বুঝতে শেখে! মায়ের পেটের ভেতর বাচ্চারা যে বিশেষ তরল পানির ভেতর ভেসে থাকে, সেখানে মায়ের খাওয়া খাবারের স্বাদ মিশে যায়।
