ট্রাম্প সম্ভবত জানেন না, যে সভ্যতার পীঠস্থানকে তিনি এক রাতে মেরে ফেলতে চেয়েছেন, সেখানে জন্ম নিয়েছেন ওমর খৈয়াম, আল-রাজি, ফেরদৌসির মতো মানুষ। তাঁরা কাব্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন ও গণিতের জগতে দিকপাল হয়ে আছেন।
ট্রাম্প সম্ভবত জানেন না, ইসলামের স্বর্ণযুগে জ্ঞানচর্চার ঐতিহাসিক কেন্দ্র ‘বাইতুল হিকমা’ বা ‘জ্ঞানগৃহ’ ছিল একাধারে গ্রন্থাগার, অনুবাদ কেন্দ্র, গবেষণাগার ও একাডেমি যেখানে বিভিন্ন সভ্যতার জ্ঞান একত্রিত করে অধ্যয়ন ও উন্নয়ন করা হতো।
এখান থেকেই গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় গ্রন্থের অনুবাদ হতো; এখান থেকেই গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদিতে গবেষণা হতো; এখান থেকেই পণ্ডিতদের মধ্যে জ্ঞান-বিনিময় ও বিতর্ক হতো।
এখান থেকেই ইউরোপের রেনেসাঁর ভিত তৈরি হয়েছিল; এখান থেকেই আল-খোয়ারিজমি বীজগণিতের ধারণা দেন যার ওপর আজকের অ্যালগরিদম দাঁড়িয়ে আছে।
ইবনে সিনা এখান থেকে অনূদিত গ্রন্থগুলোর পাঠ নিয়ে গ্রিক ও ইসলামি চিকিৎসা জ্ঞানকে একত্রিত করেছিলেন এবং তারপর নিজের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানের বই ‘আল কানুন ফিৎ তিব্ব’ (দ্য ক্যানোন অব মেডিসিন) যা ইউরোপে দীর্ঘদিন পাঠ্য ছিল।
ট্রাম্প কি জানেন, পারস্য সভ্যতায় ঋদ্ধ এই বায়তুল হিকমা থেকে উঠে আসা আল-ফারাবি ও আল-গাজ্জালি দর্শনের জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন?
ট্রাম্প সম্ভবত জানেন না, যখন বাগদাদ, নিশাপুর বা মেরভে উন্নত পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তখন আমেরিকা তো দুরে কথা, ইউরোপের অনেক অঞ্চলই ছিল সভ্য দুনিয়ার বাইরে।
