এই ৫০–৫০ ব্যবস্থাটি চালু করা হয় এমনভাবে, যাতে আরামকোর অতিরিক্ত টাকা না লাগে, কিন্তু সৌদি আরব বেশি টাকা পায়। এর জন্য ব্যবহার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ট্যাক্স ক্রেডিট আইন। সৌদি আরব বলেছিল, ‘আমাদের দেশের তেল থেকে আমাদের বেশি আয় চাই।’ কিন্তু আরামকোও চাইছিল না যে তাদের খরচ হঠাৎ অনেক বেড়ে যাক। তখন একটি বুদ্ধি বের করা হয়। সৌদি আরব আরামকোর ওপর নতুন কর বসায়। আরামকো সেই টাকা সৌদি সরকারকে দেয়। এরপর আরামকো যুক্তরাষ্ট্রকে বলে, ‘আমরা তো বিদেশে কর দিয়ে ফেলেছি, তাই আমেরিকায় আমাদের যে কর দেওয়ার কথা, সেখান থেকে এই টাকা বাদ দিন।’

এতে আরামকোর মোট খরচ খুব বেশি বাড়ল না। কিন্তু আগে যে টাকার বড় অংশ আমেরিকার কোষাগারে যেত, তার একটা বড় অংশ এবার সৌদি আরব পেতে শুরু করল। সহজ কথায়, আমেরিকা নিজের করের কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে সৌদি আরবকে বেশি টাকা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। কারণ, তখন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছিল, সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট রাখা জরুরি। বিশেষ করে তেলের জোগান ঠিক রাখতে হবে, আর ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতাও ধরে রাখতে হবে। ইসরায়েলকে মেনে নেওয়ার বিষয়টি তো ছিলই।

১৯৪৩ সালে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক এভারেট ডি–গোলিয়ারকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যই ভবিষ্যতে তেলের নতুন ভরকেন্দ্র হয়ে উঠবে। তিনি এটিকে বিশ্বের তেলের এক বিশাল ‘জ্যাকপট’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে তাদের রিপোর্টে বলা হয়, সৌদি আরবের তেল আবিষ্কার ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক পুরস্কার’।

সূত্র:

১. ড্যানিয়েল ইয়ার্গিনের ‘দ্য প্রাইজ: দ্য এপিক কোয়েস্ট ফর অয়েল, মানি অ্যান্ড পাওয়ার’ আধুনিক তেলের ইতিহাস নিয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী বইগুলোর একটি। বইটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৯২ সালে জেনারেল নন–ফিকশন বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার পায়। এই লেখার মূল সূত্র এই বই। সঙ্গে প্রাসঙ্গিক আরও সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হালনাগাদ তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।

২. অ্যান্থনি স্যাম্পসনের আরেক বিখ্যাত বই—দ্য সেভেন সিস্টার্স: দ্য গ্রেট অয়েল কোম্পানিজ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড দে শেইপড।



Source link