যখন কোনো পোষা টিয়া তোমার বলা কথা নকল করতে শুরু করে, তখন সে আসলে শুধু মজার ছলে এটা করে না। সে আসলে তোমার সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। তার এই কথা বলার মানে হলো, ‘বন্ধু, তুমি এখন আমার দলের অংশ, তাই আমি তোমার ভাষা শেখার চেষ্টা করছি।’ অর্থাৎ টিয়াপাখিরা আসলে তাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের টানেই মানুষের ভাষা শেখে!
তাহলে কি পাখিরা আমাদের কথার অর্থও বোঝে? বিজ্ঞানীদের মতে, ব্যাপারটা এতটা সহজ নয়। পাখিরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে যে কোন শব্দের পর কী ঘটে। যেমন সে হয়তো শিখেছে যে ‘হ্যালো’ বললে তুমি খুশি হয়ে হাসো বা ‘বিস্কুট’ বললে তাকে খেতে দেওয়া হয়। তাই তারা নির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়ার জন্য ওই শব্দগুলো ব্যবহার করে। মানুষের মতো ব্যাকরণ বা ভাষার পুরো অর্থ তারা হয়তো বোঝে না। কিন্তু কোন কথা বললে কী পাওয়া যাবে, সেটা তারা খুব ভালোভাবেই জানে।
তবে কিছু পাখি আবার বিজ্ঞানীদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যেমন ১৯৯৪ সালে মারা যাওয়ার আগে ‘পাক’ নামে একটি বাজরিগর পাখি প্রায় ১ হাজার ৭২৮টি ইংরেজি শব্দ শিখেছিল! এর জন্য পাক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও জায়গা করে নিয়েছিল। এমনকি সে ছোট ছোট বাক্যও তৈরি করতে পারত।
আবার গবেষকেরা এটাও দেখেছেন, কিছু টিয়াপাখি নিজেদের নাম পর্যন্ত মনে রাখতে পারে এবং অন্যদের ডাকতে পারে! মানুষের মতো টিয়াপাখিরাও খুব জটিল সামাজিক জীবন কাটায়। তাই দলের সবাইকে চিনে রাখার জন্য তাদের এই নাম মনে রাখার ক্ষমতাটি দারুণ কাজে লাগে। অনেক সময় মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য তারা নিজেরাই নিজেদের নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করে দেয়!
সূত্র: পপুলার সায়েন্স
