এর অর্থ এই নয় যে ডলার অনেকটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাস্তবতা হলো, বিকল্প পথ ও মুদ্রার উত্থান সত্ত্বেও ডলার এখনো বৈশ্বিক ব্যবস্থায় শক্ত অবস্থানেই আছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রকাশ বলেন, ডলারের বৈশ্বিক চাহিদা আছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও বাজারের অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ডলারের কদর বেড়েছে। বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদের বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে। ফলে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

অনেক বিশ্লেষক অবশ্য বৃহত্তর প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক অবস্থানে। তাঁদের ভাষ্য, অনেক বছর ধরে বহুমুখী আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলছে, সব দেশই ডলারনির্ভরতা কমাতে চায়। বর্তমান সংকটে সেই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে, যদিও যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এই পুনর্গঠন চলছে, তা মোটেও শক্তিশালী নয়।

সংবাদে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েক বছরে ডলারে লেনদেন বেড়েছে, তবে পরিমাণগত দিক থেকে তা সামান্য, উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু নয়। এখনো ডলার বিশ্বের প্রধান লেনদেনব্যবস্থা ও মুদ্রা।

ডলারের কাঠামোগত শক্তি এখনো অটুট। এর গভীরতা, তারল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার বিকল্প সহজে তৈরি করা সম্ভব নয়। এমনকি ব্রিকসের যৌথ মুদ্রার প্রস্তাবও বড় বাধার মুখে। এর জন্য প্রয়োজন গভীর অর্থনৈতিক একীভবন, বিষয়টি এখনো সুদূরপরাহত।

তবু চাপের জায়গাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ডলারবহির্ভূত প্রতিটি লেনদেন এবং বিকল্প মুদ্রায় সম্পাদিত প্রতিটি চুক্তি ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার কাঠামো বদলে দিচ্ছে।

আলবোগদাদি বলেন, এই সংকটের কারণে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পেট্রোডলার ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। যখনই কোনো বিঘ্ন ঘটছে, তখনই বাজার ডলারের বাইরে লেনদেনে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সমান্তরাল অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিনকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমছে।



Source link