ট্রাম্পের জামাতা কুশনার যখন আলোচনা ছেড়ে যান, তখন তাঁর মনোভাব নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণ পাওয়া গেছে। কারও মতে, তিনি এমন একটি ধারণা দিয়েছিলেন, ট্রাম্প এই সমঝোতাকে স্বাগত জানাবেন। আবার অন্যদের মতে, মার্কিন আলোচনাকারীরা জানতেন যে যুদ্ধই যে সেরা বিকল্প নয়—তা ট্রাম্পকে বোঝাতে হলে অনেক বড় বা অভাবনীয় কিছুর প্রয়োজন হবে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিক বলেছেন, ‘আমরা উইটকফ ও কুশনারকে ইসরায়েলের লোক হিসেবে গণ্য করেছিলাম, যাঁরা একজন প্রেসিডেন্টকে এমন এক যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেছে, যা থেকে তিনি আসলে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।’
ওয়েলশ জাতীয়তাবাদী দল প্লাইড কামরির এমপি লিজ সেভিল রবার্টস গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পাওয়েলের উপস্থিতির বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব ইভেট কুপারের দেওয়া একটি হালনাগাদ তথ্যের সময় তিনি এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
কুপারকে সেভিল বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে কূটনৈতিক বিকল্পগুলো তখনো কার্যকর ছিল এবং ইউরোপের ওপর কোনো আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি কিংবা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র শিগগিরই তৈরির কোনো প্রমাণও ছিল না।’
সেভিল আরও বলেন, ‘তিনি (কুপার) কি তাহলে বিশ্বাস করেন, সেই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ তখনো সম্ভব ছিল? আর যদি তা-ই হয়, তবে কি এর অর্থ এই দাঁড়ায় না যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলাগুলো ছিল অপরিণত এবং অবৈধ?’
জবাবে ইভেট কুপার বলেন, ‘যুক্তরাজ্য পারমাণবিক আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সব সময়ই সমর্থন দিয়ে এসেছিল।’
কুপার আরও যোগ করেন, ‘আমরা মনে করি, সেটি (কূটনৈতিক পথ) একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল এবং আমরা চেয়েছিলাম এটি অব্যাহত থাকুক। যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে যেসব হামলা চালিয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা যে অবস্থান নিয়েছিলাম—এটি ছিল তার অন্যতম প্রধান কারণ।’
