সাদা রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো সাধারণত রাতেই ফোটে। এদের পরাগায়ন হয় কীটপতঙ্গের মাধ্যমে। অর্থাৎ হাসনাহেনা ফুলের সুগন্ধে কীটপতঙ্গ আকৃষ্ট হয়, এরা এসে ফুলের পরাগায়ন ঘটায়। অন্যদিকে এই কীটপতঙ্গই আবার কিছু শিকারি প্রাণীকে আকৃষ্ট করে। যেমন কুনোব্যাঙ, মাকড়সা, টিকটিকি, গিরগিটি ইত্যাদি। এসব প্রাণী আসে পোকা খেতে। এদের আকর্ষণে আবার ছুটে আসে সাপ। টিকটিকি, গিরগিটি কিংবা ব্যাঙ সাপের প্রিয় খাবার।

রাতে খাবারের তালাশে বেরোয় সাপ। হয়তো সুগন্ধি ফুলগাছের নিচ দিয়ে যাচ্ছে, সেটি হতে পারে হাসনাহেনা কিংবা অন্য কোনো ফুলগাছ। সাপ তখন সেখানে খাবারের সন্ধান পায় এবং চুপিসারে এসে টিকটিকি, গিরগিটি কিংবা কুনোব্যাঙকে সাবাড় করে। পেটপুরে খাওয়ার পর সাপ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। সেটি লোকচক্ষুর আড়ালে হলে ভালো হয়। এর জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো হাসনাহেনা ফুলগাছ। হাসনাহেনার ডালগুলো সাধারণ বৃক্ষের মতো শক্তপোক্ত নয়, অনেকটা লতার মতো হেলে পড়া ভাব আছে। তাই হাসনাহেনার ডালগুলো ঝোপালো হয়ে মাটিতে বিছিয়ে থাকে। এতে গাছের গোড়াটা অনেকটা দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠে, যা সাপের বিশ্রামের জন্য আদর্শ জায়গা। তাই অন্য যেকোনো সুগন্ধি ফুলগাছের চেয়ে হাসনাহেনা গাছের নিচেই সাপকে বেশি দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী এবং সাপ গবেষক ডক্টর ডেভিড জিসকে এ বিষয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাপ মাংসাশী প্রাণী এবং তাদের বেঁচে থাকা ও শিকারের কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা। ফুলের সুগন্ধ সাপের স্নায়ুতন্ত্রে কোনো আকর্ষণ তৈরি করে না। এরা মূলত ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও উভচরদের শিকার করার জন্য আসে। এসব প্রাণীর শরীরের গন্ধ ও তাপমাত্রা অনুসরণ করেই সাপ ছুটে আসে ফুলগাছের নিচে।’



Source link