করের আওতা সম্প্রসারণের জন্য এবারের বাজেটে খুচরা ব্যবসায়ীদের এই প্রথম করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা চাপতে পারে। পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজেট প্রস্তাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপে কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে করের আওতা সম্প্রসারণে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রমতে, পণ্য কেনার সময় পণ্য সরবরাহকারী বা পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম কর কেটে রেখে সরকারের কোষাগারে জমা দেবেন। এটা আদায় করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব নয় বলছেন কর কর্মকর্তারা।

এদিকে দেশের অর্থনীতির বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক। তাদের করের আওতায় আনতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজস্ব কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে স্থানীয় খুচরা মুদিদোকান করের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা আছেন। তাঁরা করের আওতায় চলে আসবেন।

দামে প্রভাব

করের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্র পাইকারি ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। তাঁরা বলছেন, ক্ষুদ্র পাইকারি বিক্রেতাদের মুনাফা সীমিত। সেখানে ২ টাকা কর কীভাবে দেওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাকিব আহমেদ মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি চাল-ডালসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি করেন। প্রথম আলোকে এ তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘হাজারে আমরা ২-৩ টাকা লাভ করি, তাহলে কীভাবে ২ টাকা কর দেব আমরা? কর দিতে হলে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়বে। আমাদের তখন ২ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।’

এতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া এই কর আদায় করা কতটা সম্ভব হবে, সেই সংশয় আছে ব্যবসায়ীদের। রাকিব আহমেদের মতে, পরিবেশকদের ব্যবস্থার বাইরেও অনেক পণ্য বিক্রি হয়। তাই এটা আদায় করা কঠিন হবে। যেখানে কর ছাড়া পণ্য পাওয়া যাবে, সেখান থেকে পণ্য ক্রয়ের প্রবণতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।



Source link