কারণ, এখানেই সামনে আসে আরও কঠিন প্রশ্ন—এই পুনর্গঠনের কাজটি করবে কে?

প্রশাসক তারল্যসংকট মোকাবিলা করতে পারেন, দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে পারেন এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি থেকে রক্ষা করতে পারেন; কিন্তু কোনো প্রশাসক দীর্ঘমেয়াদি অর্থে একটি ব্যাংক পুনর্গঠন করতে পারেন না। একটি ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের জন্য দরকার মূলধন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ঋণশৃঙ্খলার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বাসযোগ্য শাসনব্যবস্থা। এগুলো এমন কাজ, যার জন্য একটি সক্ষম ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের প্রয়োজন। প্রশাসক আগুন নেভাতে পারেন; কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজন স্থপতি।

সমস্যা হলো—যে পরিবেশে এমন একটি বোর্ড সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই পরিবেশই যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে বেশি নিরুৎসাহিত করে। বহু বছর ধরে বিতর্ক, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নানা ধরনের স্বার্থ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে অনাগ্রহী থাকবেন। কারণ, সেখানে শুধু একটি দুর্বল ব্যালান্স শিটের দায় নয়, একটি জটিল উত্তরাধিকারও বহন করতে হয়। বোর্ডে যোগ দেওয়া মানে শুধু আর্থিক পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেওয়া নয়; অনেক ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠে একটি গভীরভাবে বিভক্ত ও অবিশ্বাসপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার চ্যালেঞ্জ। ফলে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালনা করার জন্য দরকার বিশ্বাসযোগ্য শাসনব্যবস্থা; কিন্তু সেই বিশ্বাসযোগ্য শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে আবার এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে পেশাদার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হবে না। পুনর্গঠনের প্রযুক্তিগত পথ মোটামুটি পরিষ্কার; কঠিন হলো সেই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সেই পথ অনুসরণ করা সম্ভব।



Source link