সামরিক জাদুঘরে কাচের ভেতর সাজানো অস্ত্র, নথি, দলিল—সবকিছুই যেন একেকটি গল্প বলে। বিশেষভাবে চোখে পড়ে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা—শিবনারায়ণ দাসের হাতে তৈরি সেই পতাকা, যা একসময় হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার প্রতীক।

প্রথম তলাতেই দর্শনার্থীকে স্বাগত জানায় ইতিহাসের গভীরতা। কোথাও পলাশীর যুদ্ধ, কোথাও মোগল আমলের সামরিক ঐতিহ্য। একটু এগোলেই বদলে যায় দৃশ্যপট—আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অনুকরণে তৈরি বাংকার, তাঁবু, কমান্ড পোস্ট। যুদ্ধ যেন শুধু পড়ার বিষয় নয়, দেখারও—কখনো কখনো অনুভব করারও।

জাদুঘরে প্রবেশ করেই আমরা যাই সেনা গ্যালারিতে। বাংকার, অস্ত্রের সরঞ্জাম, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত সামরিক যন্ত্র, পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার করা গাড়ি, ট্যাংকারসহ নানা সামরিক যন্ত্রপাতিও এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। সেনা গ্যালারি এমনভাবে সাজানো, যা দেখে দর্শনার্থীদের মনে হবে, তাঁরা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন।

সেখানে রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ব্যবহৃত একটি জিপ। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জিপে করে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশ ফোর্সেস সদর দপ্তর থেকে সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রণাঙ্গনে যেতেন মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন, যুদ্ধের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন করতেন।



Source link