সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওষুধ ছিটানোয় কোনো অবহেলা নেই। নিয়ম করে প্রায় সব এলাকায় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে সিটি করপোরেশনে মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড ও লার্ভিসাইড ব্যবহার করত। এর মধ্যে অ্যাডাল্টিসাইড মশা মারতে এবং লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হয় মশার লার্ভা ধ্বংসে। অ্যাডাল্টিসাইড হিসেবে ডেল্টামেথ্রিন নামের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ম্যালাথিয়ন ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে।
এ ছাড়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে মশা নিধনে আধুনিক প্রযুক্তির কীটনাশক বিটিআই (বাসিলাম থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) ব্যবহার শুরু করে সিটি করপোরেশন। বিটিআই একধরনের ব্যাকটেরিয়া। মশার লার্ভা ধ্বংস করে বিটিআই। গত বছরের ২৬ মার্চ নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ সড়কের সামনের খালে পরীক্ষামূলকভাবে বিটিআই লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
ওষুধ ছিটানোর পরও কেন মশার উৎপাত কমছে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয় সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পুরোনো ওষুধের পাশাপাশি নতুন ও দামি ওষুধও ব্যবহার করছেন। সাধারণত মশা নিধনে কোনো ওষুধ পাঁচ বছর একটানা ব্যবহার করলে মশা ওই ওষুধ–প্রতিরোধী হয়ে যায়। এখন যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তা ব্যবহার করা হচ্ছে তিন থেকে চার বছর ধরে। তাই ধারণা করছেন, মশা ওষুধ–প্রতিরোধী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘হয়তো ওষুধের কার্যকারিতা কমে গেছে। তাই ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেব।’
