বিরোধী দলের যুক্তিতর্ক
জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই আদেশ আইন। এটি জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির আছে। গণ-অভ্যুত্থান এ এখতিয়ার দিয়েছে। কোনো আইন অবৈধ কি না, সেটা বলার এখতিয়ার আছে হাইকোর্টের। অন্য কেউ কোনো আইনকে অবৈধ বলতে পারেন না। তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব প্রস্তাব আছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যাবে না। এ জন্য দরকার হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ।
জুলাই সনদ না আইন, না অধ্যাদেশ—এ বিষয়ে নাজিবুর বলেন, এ আদেশের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট আমলে নিয়ে রুল হয়েছে। এটা আইন না হলে চ্যালেঞ্জ করে রিট হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, জনগণের আবেগ হলো সংবিধানের বাবা।
জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৭৭ সালে, এরশাদের আমলে ও ১৯৯১ সালে গণভোট হয়েছে। এর কোনোটাই সংবিধানে ছিল না, কিন্তু গণভোটের রায় কার্যকর হয়েছে। এবার ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ৭০ শতাংশ শক্তিশালী নাকি ৫১ শতাংশ (বিএনপি জোটের প্রাপ্ত ভোটের হার)।
জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেটা হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে কোন সংবিধানের বলে নির্বাচন হয়েছে? তাহলে কি সংসদ, সরকার সবকিছু অবৈধ?’
কোন প্রেক্ষাপটে এ সংসদ গঠিত হয়েছে, তার উল্লেখ করে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ৫–৮ আগস্ট (২০২৪) পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময়ে সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল? বর্তমান আইনমন্ত্রী তখন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কীভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন? আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের ফর্মুলা কী? ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়ার ফর্মুলাটা কি সংবিধানে বর্ণনা করা ছিল?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথের বর্ণনাও সংবিধানের কোথাও নেই উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, এসবের কোনো কিছুই সে সময় সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। কারণ, তখন চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, হাজারো মানুষের জীবনের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে জনগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত হয়েছিল।
