আজকাল সবারই সকালটা শুরু হয় মুঠোফোন হাতে নিয়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নোটিফিকেশন, খবরের শিরোনাম, সামাজিক মাধ্যমের লাইক-কমেন্ট—সব মিলিয়ে আমরা একধরনের ‘ডোপামিন বুফে’তে ডুবে যাই। ডোপামিন বুফে বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে আমরা একসঙ্গে অনেক ছোট ছোট আনন্দদায়ক কাজ করি, যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কে বারবার ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায়।
কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার সময় মস্তিষ্ক আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। গভীর ঘুমের ডেলটা ও থিটা তরঙ্গ থেকে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আলফা তরঙ্গে প্রবেশ করে। এটি একটি শান্ত, স্বচ্ছ ও সৃজনশীল মানসিক অবস্থা। অনেক সময় নতুন আইডিয়া, সমস্যার সমাধান বা পরিষ্কার চিন্তা এই সময়েই আসে। একে অনেকেই ‘আলফা ব্রিজ’ বলেন। আলফা ব্রিজ হলো ঘুম ও জাগরণের মাঝখানের সৃজনশীল সেতু। সমস্যা হলো, আমরা যখন ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখি, তখন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি ভেঙে যায়। মস্তিষ্ক হঠাৎ করে তথ্য, শব্দ, প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পড়ে যায়। তখন মস্তিষ্ক শান্ত আলফা অবস্থা থেকে সরাসরি হাই-বেটা অবস্থায় চলে যায়। এই হাই-বেটা অবস্থা চাপ, উদ্বেগ ও তাড়াহুড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে নোটিফিকেশন সামলাতে গিয়ে একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করলে সাময়িকভাবে মানুষের আইকিউ কমে যেতে পারে, যা এক রাত না ঘুমানোর মতো প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ দিনের শুরুতেই আমরা আমাদের মনোযোগের শক্তি কমিয়ে ফেলি।
আরও বড় সমস্যা হলো, দিনের শুরুতেই আমরা নিজের পরিকল্পনা দিয়ে দিন শুরু করি না, অন্যের চাহিদা দিয়ে শুরু করি। এ জন্য অনেকেই এখন দিনের প্রথম এক ঘণ্টা ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল থেকে দূরে থাকেন। একে অনেকে ‘৬০ মিনিট বাফার’ বলেন। এ সময় মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, চিন্তা পরিষ্কার হয়, মন শান্ত থাকে।



Source link