অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল-মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে, তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
প্রশ্ন হলো সেই সংশোধন অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবে না বিপক্ষে? ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার হবে। এমনকি দল অপরাধ করলেও তার বিচার হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক একমাত্র আদালত, কোনো নির্বাহী আদেশ নয়।
এ মুহূর্তে দুটি বিষয় নিয়েই সংসদ উত্তপ্ত। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ। এ অধ্যাদেশের সব কটিই যে জনকল্যাণের কথা ভেবে করা হয়েছে, তা নয়। কিন্তু যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সরকারকে অধিকতর জবাবদিহির আওতায় আনতে, সেগুলো রহিত বা স্থগিত করার কোনো যুক্তি নেই। সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যেকোনো আইন পাস করতে পারে। কিন্তু সেই আইন গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী না করে যদি আরও দুর্বল করে, তাহলে নিকট অতীতে গণ-অভ্যুত্থানে এতগুলো মানুষ কেন জীবন দিল?
● সোহরাব হাসান সাংবাদিক ও কবি
* মতামত লেখকের নিজস্ব
