ঢালাও মামলার অন্যতম বড় সমস্যা হলো, এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাওয়ার সুযোগ পান। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রকৃত অপরাধী বা সরাসরি গুলির নির্দেশদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্বল বা ভিত্তিহীন, তাঁরাই কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। এই বাস্তবতা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেটা ঘটেনি। এ রকম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার মামলাগুলো যাচাই–বাছাই করার কথা বলেছিল। বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিবেচনায় কাউকে কাউকে জামিনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। এর ফলে আটককৃত ব্যক্তিরা জামিনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন যাচাই–বাছাই করে দ্রুত তাঁদের জামিন দেওয়া এবং এ ক্ষেত্রে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এখন যেহেতু নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই জনগণের প্রত্যাশা—এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত সমাধান হবে। নতুন বাস্তবতায় প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে সমঝোতার রাজনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
