মেশিন লার্নিংয়ের সাহায্যে রিজার্ভ অনুমান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ, খনিজ সম্পদ খুঁজে বের করায় এআই ব্যবহার, তেল-গ্যাসের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ডিজিটাল মডেল ব্যবহার, এমন নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে এই বিভাগে। শিক্ষকেরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানিসংকটের সময় এই বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছেন। অনেকে নতুন গ্যাস ও তেলক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজেও যুক্ত আছেন।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বললেন, ‘জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় আমরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং এআইভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ করছি, যেন দেশের জ্বালানি খাত নিরাপদ ও টেকসই হয়।’ আরেক অধ্যাপক সাইফুল আলম যোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা শেখাই যে শুধু উত্তোলন নয়, টেকসই উন্নয়নই আসল চ্যালেঞ্জ।’
বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৪৫০ স্নাতক বের হয়েছেন। এর ৪০ শতাংশই বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা কিংবা কোম্পানিতে চাকরি করছেন। শেভরন এবং শ্লুমবার্জারের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিতেও আছেন কেউ কেউ। দেশের ভেতর পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, বড়পুকুরিয়া কয়লা মাইনিং কোম্পানি কিংবা মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিতে গেলেও শাবিপ্রবির জ্বালানি ও খনিপ্রকৌশল বিভাগের অ্যালামনাইদের দেখা পাবেন।
পেট্রোবাংলার উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) পরিদপ্তরের অধীনে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত মো. তানভীর হাসান। তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির এই বিভাগ আমাকে শুধু ডিগ্রি দেয়নি, বাস্তব দক্ষতা দিয়েছে। পুঁথিগত বিদ্যার সঙ্গে বাস্তবতার সরাসরি সংযোগ ঘটিয়েছে। পেট্রোবাংলায় কাজ করতে এসে বুঝেছি, আমাদের শিক্ষা আন্তর্জাতিক মানের। আমরা যখন দেশের বাইরে সেমিনার কিংবা ট্রেনিং প্রোগ্রামে যাই, তখন বিষয়টা আরও অনুধাবন করি।’
ইন্টার্নশিপের সুযোগও শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে বড় ভূমিকা রাখে। গত বছর যেমন ১৮ জন শিক্ষার্থী সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডে এবং পাঁচজন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে চার সপ্তাহের ইন্টার্নশিপ করেছেন। পেট্রোবাংলার সঙ্গে শাবিপ্রবির জ্বালানি ও খনিপ্রকৌশল বিভাগ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন।
সিলেট গ্যাসফিল্ডের ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘জ্বালানিসংকটের এ সময়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি সীমিত সুযোগের মধ্যেও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে। আশা করি, জ্বালানিসংকট কাটাতে ভবিষ্যতে তারা আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে।’
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সহায়তা এখনো সীমিত। তবে আধুনিক গবেষণাগার, যথেষ্ট অনুদান এবং শিল্প খাতের সঙ্গে আরও বড় সহযোগিতা দরকার। যদি সরকার এই সহায়তা দেয়, তাহলে আমাদের বিভাগ দেশের জ্বালানি খাতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।’
