আলোক কণা ঘুরতে পারে দুইভাবে। এক, আলোককণা যেদিকে ছুটছে, সেদিকেই ঘোরা। দুই, যেদিকে ছুটছে, তার উল্টো দিকে ঘোরা। তাই ৪-এর বদলে ৮ (২×৪)। বসুর বিখ্যাত পেপারটি দেখার পর আইনস্টাইন তা পাল্টে দেন। স্যার আমাকে বললেন, “বুড়ো ওটা কেটে দিল।” পরে আলোক কণার স্পিন পরীক্ষায় ধরা পড়ে। আমি স্যারকে বললাম, “স্পিন ধরা পড়ার পরে কেন আপনি আইনস্টাইনকে বললেন না যে আপনিই ঠিক। তাহলে তো আলোক কণার স্পিনের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আপনার কৃতিত্ব স্বীকৃত হতো।” স্যার উত্তরে বললেন, “কে বার করেছে, তাতে কী যায়-আসে রে? বেরিয়েছে তো”।’

আইনস্টাইন মহাবিজ্ঞানী তখন। তাঁর কথার ওজন আলাদা। তাই পার্থ ঘোষ যে বলেছিলেন, ফুটনোটটিই সত্যেন বোসের দ্বিতীয় প্রবন্ধটিকে হত্যা করেছিল, এ যুক্তি ফেলে দেওয়া যায় না। পার্থ ঘোষ বলেন, একজন রেফারি যখন একটা প্রবন্ধ রিভিউ করেন, তাঁর মন্তব্য জুড়ে দেন তাতে। সেই মন্তব্য আবার প্রবন্ধের মূল লেখকের কাছে পাঠানো হয়। তিনি যদি রেফারির মন্তব্যের সঙ্গে একমত হন এবং রেফারির নির্দেশমতো কারেকশন করেন, তবেই প্রবন্ধটা ছাপা হয়। নইলে হয় না। কিন্তু সাইটস্রিফ ফ্যুর ফিজিক–এর রেফারি, অর্থাৎ আইনস্টাইনের ফুটনোটটি সত্যেন বোসকে না দেখিয়েই ছেপেছিল। এখানেই আপত্তি পার্থ ঘোষের। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ কোনো জার্নাল এ রকম ঘটতে দেবে না। পেপার যাঁদের পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়, তাঁদের মন্তব্য এলে সেসব পাঠানো হয় লেখককে। লেখক যদি মন্তব্যের কোনো সদুত্তর দিতে না পারেন, তাহলে সে পেপার ছাপাই হয় না। রেফারিদের ও রকম বিরূপ মন্তব্যসহযোগে কোনো পেপার এখন ছাপার রীতি নেই।’

এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, আইনস্টাইন এই পেপারের রেফারি ছিলেন না। ছিলেন সুপারিশকারী। ভুলে গেলে চলবে না, তাঁর একটা ফুটনোটের কারণেই সত্যেন বোসের প্রথম পেপারটি আলোর মুখ দেখেছিল। সুতরাং আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানীর মতামতকে রেফারির মধ্যে মন্তব্য হিসেবে দেখেননি জার্নালের সম্পাদকেরা। তা ছাড়া সত্যেন বোসেকে তাঁরা চিনতেন বলেও মনে হয় না; বরং আইনস্টাইনই সেটার প্রেরক, সেটা সম্পর্কে তাঁর মতকেই শেষ কথা বলে ধরে নিয়েছিলেন। আর সেকালে রেফারি বা রিভিউ সিস্টেমটা চালু ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। জার্মানি বা ইউরোপিয়ান জার্নালগুলোতে তখনো এই ধারা চালু হয়নি। তাই জার্নালের সম্পাদকের কাজটাকে কিছুতেই পক্ষপাতিত্বমূলক বলার উপায় নেই। আইনস্টাইনের ফুটনোটটাকে অগ্রাহ্য করার উপায়ও ছিল না সম্পাদক মহাশয়ের।



Source link