অস্থিরতা, যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষের আশ্রয় হয়ে ওঠে সুর। সেই বোধ থেকেই গানের খাতা খোলেন অদিতি মহসিন। প্রায় একই রাগে দুটি গান গেয়ে শ্রোতাদের মনোজগৎ প্রস্তুত করেন অদিতি মহসিন। পরিবেশন করেন রজনীকান্ত সেনের ‘তুমি নির্মল করো’ রবীন্দ্রনাথের ‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি’। দুটি গানেই ধ্বনিত হয়েছে শান্তির জন্য আকুতি। তৃতীয় পরিবেশনার আগে অদিতি বলেন, বাংলা গানের আধুনিক কাঠামো বদলে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সূত্রে তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় ‘তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে’। গান এগোয়, আবহ বদলায়, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’—ভিন্ন মেজাজে ধরা দেয় আবেগের অন্য রং। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘আজি, নূতন রতনে, ভূষণে যতনে’ গেয়ে ছুঁয়ে যান ঐতিহ্যের আরেক ধারা। তারপর রবীন্দ্রসংগীত ‘বিপুল তরঙ্গ’, ‘ও যে মানে না মানা’ এবং ‘যাব না যাব না ঘরে’—ক্রমে গাঢ় হয় সুরের আবেশ। দেশাত্মবোধের আবহে ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’ গেয়ে একক পরিবেশনা শেষ করেন অদিতি। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রচিত স্বদেশ পর্যায়ের গানটি দিয়ে উচ্চারিত হয় আত্মপরিচয় আর দেশের প্রতি নিবিড় ভালোবাসা।



Source link