তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশগত ভারসাম্য। অতিরিক্ত লবণ উত্তোলন অনেক সময় মাটির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সিলভোফিশারিজের সঙ্গে লবণ চাষকে একীভূত করতে হলে পরিবেশগত সীমা বিবেচনায় নিতে হবে—যাতে কোনো একটি কার্যক্রম অন্যটির ক্ষতি না করে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, লবণ ব্যবসা ও সিলভোফিশারিজ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা ও মৌসুমি সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা একটি ‘মাল্টি-ইউজ কোস্টাল ল্যান্ডস্কেপ’ তৈরি করতে পারে। এতে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী লবণ চাষ টিকে থাকবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে উপকূলীয় অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠবে।
অবশ্য এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ। চিংড়ি ও লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো নীতিই সফল হতে পারে না। তাই প্রয়োজন ধাপে ধাপে রূপান্তর, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং আন্তখাত সমন্বয় অপরিহার্য।
চকরিয়া সুন্দরবনের পুনর্জাগরণকে তাই ‘বন বনাম চিংড়ি’ বা ‘বন বনাম লবণ চাষ’—এই সরল দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সমন্বিত বাস্তবতায় দেখতে হবে, যেখানে পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজ—এই তিন স্তম্ভ একে অপরের পরিপূরক। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থানই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। সে উপলব্ধি থেকেই হয়তো শুরু হতে পারে এক নতুন যাত্রা, যেখানে হারিয়ে যাওয়া চকরিয়া সুন্দরবন আবারও ফিরে পেতে পারে তার প্রাণ, তার ছন্দ, তার জীবন।
-
ড. মো. শরীফুল ইসলাম সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ), সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ফার্মগেট, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মতামত লেখকের নিজস্ব
