প্রাচীন কারিগরেরা খুব নিখুঁতভাবে এই চাকা বানিয়েছিলেন। পুরো চাকাটি কাঠের দুটি বড় তক্তা জোড়া দিয়ে বানানো। তক্তা দুটিকে চারটি ছোট কাঠের টুকরা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। চাকাটির মাঝখানে একটি চারকোনা ছিদ্র আছে। এক্সেলটিকে এই ছিদ্রের ভেতরে শক্ত করে আটকে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে চাকা ও এক্সেল একসঙ্গে ঘুরত।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি কোনো দুই চাকার ঠেলাগাড়ির অংশ ছিল। ঠেলাগাড়িটি ভারী জিনিস টানার কাজে ব্যবহার করা হতো। সময়টা ছিল তাম্রযুগ। তখনো লোহার ব্যবহার শুরু হয়নি। মানুষ কেবল তামার ব্যবহার শিখেছিল। সেই সময়ের পাথরের ও তামার তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়েই এত সুন্দর চাকা বানানো হয়েছিল। এটি সত্যি মানুষের আদিম বুদ্ধিমত্তার এক দারুণ উদাহরণ।

এই চাকা কারা বানিয়েছিল? আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ওই জলাভূমি এলাকায় একদল মানুষ বাস করত। তাদের বলা হয় পাইল ডুয়েলার। তারা সরাসরি সমতল মাটির ওপর ঘর বানাত না, হ্রদ বা জলাভূমির পানিতে বড় বড় কাঠের খুঁটি পুঁতত। সেই খুঁটির ওপর মাচা বানিয়ে তৈরি করত কাঠের ঘর। তারা সেখানে ফসল ফলাত, পশু শিকার করত, কাঠ ও খাবার সংগ্রহ করত জঙ্গল থেকে। ভারী মালপত্র টানার জন্যই তারা এ ধরনের চাকার গাড়ি ব্যবহার করত।



Source link