একজন বলল, ‘অফিস সময়ের পর যদি জরুরি কাজ সারার তাগিদে কখনো অফিসে থাকতে হয়, সহকর্মী বান্ধবীদের ভেতর কাউকে অনুরোধ করবে একটু অপেক্ষা করতে আর…’
মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অন্যজন বলে উঠল, ‘কার এমন দায় পড়েছে যে ছুটির পরও সহকর্মীর স্বার্থে বসে থাকবে?’
‘নিজেদের ভেতর এমন বোঝাপড়া থাকবে যে সহকর্মী-বান্ধবীর প্রয়োজনে তোমাকেও ওই ত্যাগটুকু স্বীকার করতে হবে।’
‘আমি কী করি, জানো?’
বাকি দুজন একসঙ্গে প্রশ্ন করল, ‘কী করো, বলো তো।’
‘আমার অধীনস্থ মেয়েদের একজনকে মামুলি কোনো কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখি। পরে ওই কাজের জন্য ওকে ওভারটাইম বিল দিয়ে দিই। তবে তোমার বুদ্ধিও চমৎকার। এ রকম সামাজিক সম্পর্কজাল তৈরি করেও নিরাপদ থাকা যায়।’
‘আচ্ছা, মেয়েদের কেন বাইরে কাজ করতে গিয়ে এত কিছু ভেবেচিন্তে এগোতে হয় বলো তো? কোনো ছেলে যদি অফিস ছুটির পরও ফাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকে, তখন বলা হবে, সাংঘাতিক কাজপাগল লোক আর মেয়ের ক্ষেত্রে বলা হবে, প্রমোশনের আশায় জান দিয়ে খাটছে…’
অন্য মেয়েটি বলল, ‘একলা বসে অফিস আওয়ারের পর কাজ করতে হলে প্রমোশনের লোভে বললে তো শোভন শোনায়। তখন বলা হবে, কার মন ভোলানোর জন্য যেন মেয়েটি কাজ করার ভান করে যাচ্ছে!’
‘বাইরের চেয়ে ঘরটাই মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয় কি?’
কথাটা শুনেই শাশুড়ি চমকালেন। ভাবলেন, এখানে তাঁর কিছু বলার আছে। বলতেই হবে তাঁকে। গড়াতে গড়াতে বিছানার কিনারে এসে ঝটিতে উঠে বসলেন। পা টেনে টেনে আলমারির কাছে গেলেন। কষ্টে আলমারির দরজা খুলে কাপড়ের ভাঁজ থেকে মলিন খাতাটা হাতে নিলেন। এমন সুযোগে মেয়েদের কিছু বলা যায়। যে কথা দুজন ছাড়া কাউকে কোনো দিন বলেননি তিনি। তাঁর নিজের শাশুড়ি অবশ্য যখন ঘটনা ঘটেছিল, তখনই ব্যাপারটা আন্দাজ করে পরিশীলিত আভিজাত্য ভুলে চাপা রাগে হিসহিসিয়ে উঠে বলেছিলেন, ‘বেজন্মার স্বভাব ভালো না, আমি টের পেয়েছি আগেই। রাগী কাজের মেয়ে যখন অশোভনভাবে গায়ে হাত দিয়ে ঠাট্টার প্রতিবাদে চিলচিৎকার দিল, ওকে অনেক তোষামোদ আর ব্যাগলতা করে চুপ করিয়েছি। আমার মেয়ে জানার আগেই অনেক বকশিশ দিয়ে ওকে কাজ থেকে বিদায় করেছি। বউমা, আমার ছেলেকেও তুমি কিছুই বোলো না, কেমন! এই দয়াটা করো, মা!’
