রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নানা কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
ভাষণে রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন।
কৃষি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
নারীর উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতি বছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও জানান।
সামাজিক, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা খাতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরার পর ভাষণ শেষ করে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। এরপর সংসদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’সহ নানা স্লোগান।
স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানোর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রবেশ করেন এবং স্পিকারের পাশে বসেন। বিরোধী সদস্যদের হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন
