ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, বড় শিল্পগোষ্ঠী, টেলিকম, ফার্মাসিউটিক্যালস কিংবা উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে কাজ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। অনেক জায়গায় এমবিএ বাধ্যতামূলক না হলেও বাস্তবে এটি একজন প্রার্থীর দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বা কমার্স পড়েননি; অর্থাৎ যাঁরা প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, কলা বা সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বাজেট করা, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) গণনা, অ্যাকাউন্টস, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ ও ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ফোরকাস্টিং, ক্যাশ ফ্লো, আর্থিক বিবরণী—এসব বিষয়ের মুখোমুখি হতেই হয়, যেগুলো তাঁদের শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়েই হয়তো শেখা হয়নি।

এমবিএ এসব অভিজ্ঞতাকে একটা কাঠামোর মধ্যে এনে দেয়। ফলে আন্দাজের ওপর সিদ্ধান্ত না নিয়ে, তথ্য ও বিশ্লেষণের ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়। পাশাপাশি একটি ভালো এমবিএ প্রোগ্রাম থেকে বাস্তব যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো সবকিছু একজনকেই জানতে হবে, এমন নয়। কোনো কোনো সিদ্ধান্ত নিজেই নেওয়া যায়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হয়।

যেমন ধরা যাক ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) এমবিএ ও ইএমবিএ প্রোগ্রামের কথা। বিশেষ করে এক্সিকিউটিভ এমবিএ বা ইএমবিএ প্রোগ্রামটি পেশাজীবীদের বাস্তবতা মাথায় রেখে সাজানো। সন্ধ্যা ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস হওয়ায় চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। কোথায় এমবিএ করব—অনেকের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টাই সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।

আইইউবিতে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য তুলনামূলক কম সময়ে ডিগ্রি শেষ করার সুযোগ আছে, তাই দীর্ঘ বিরতির ভয় নেই। শিক্ষকদের বড় অংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী; অনেকেই সরাসরি শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ক্লাসের আলোচনাগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে না। পাঠ্যক্রমে কেস স্টাডি, গবেষণা ও বাস্তব সমস্যার আলোচনা গুরুত্ব পায়। একই ক্লাসে বিভিন্ন খাত থেকে আসা পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে, যা শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তব করে তোলে এবং নেটওয়ার্ক বড় করতে সাহায্য করে। আইইউবির এমবিএ ও ইএমবিএ প্রোগ্রামের রয়েছে এসিবিএসপি ও এএসিএসিবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা একটি বাড়তি আস্থার জায়গা।

আরেকটি বিষয় অনেকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তা হলো সহায়ক নীতিমালা। মেধা, করপোরেট সংযোগ কিংবা পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা থাকায় অনেকের জন্য এমবিএ বা ইএমবিএ করার সিদ্ধান্তটা আরও বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন এটি চাকরির সঙ্গে সমন্বয় করে করা যায়। যেমন স্বামী-স্ত্রী বা ভাই-বোন একসঙ্গে ভর্তি হলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়। একই অফিসের একাধিক কলিগ একসঙ্গে ভর্তি হলেও রয়েছে বিশেষ ছাড়।

এককথায় বলতে গেলে, এমবিএ করার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা উচিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান ঠিক রেখে পাঠ্যক্রম কতটা নমনীয়; শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কেমন এবং আর্থিকভাবে আপনার জন্য কতটা জুতসই। তবে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো, আপনি কি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য এমবিএ করছেন, নাকি কর্মক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থেই নিজের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করার জন্য এমবিএ করার কথা ভাবছেন? যদি কারণ দ্বিতীয়টি হয়, তাহলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ক্যারিয়ারে এগিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে পারবে, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এমবিএ বা ইএমবিএ এখন আর কোনো শর্টকাট নয়। কোথায় এমবিএ করবেন, এটি এমন এক সিদ্ধান্ত, যা ভালোভাবে ভেবেচিন্তে নিতে হয়। যাঁরা বুঝতে পারছেন তাঁদের কাজের পরিধি বাড়ছে, দায়িত্ব বাড়ছে এবং সেই দায়িত্ব কীভাবে আরও ভালোভাবে সামলানো যায় সেটা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এমবিএ হতে পারে একটি ব্যবহারিক বিনিয়োগ।



Source link