বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। জার্মানিতে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব মডেল উৎপাদন কাঠামোরই অংশ। সুইডেনে শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা শ্রমবাজারকে দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

সিঙ্গাপুরের বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ভিত্তিক মডেল শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া দক্ষতা উন্নয়নকে শিল্পনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে। তাদের সম্মিলিত বার্তা একটাই—শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় কোনো খরচ নয়, এটি উৎপাদনশীলতায় সরাসরি বিনিয়োগ।

বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও চারটি ক্ষেত্রে এখনই মনোযোগ দেওয়া জরুরি:

প্রথমত, শ্রমিকবান্ধব আর্থিক পণ্যের বিস্তার: ক্ষুদ্র পেনশন, কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা, জরুরি সঞ্চয় স্কিম এবং আয়ভিত্তিক বিনিয়োগ পণ্য বাজারে আনলে বা থাকলেই হবে না, সেগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সত্যিকার অর্থে সহজলভ্য করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কর্মস্থলভিত্তিক আর্থিক সাক্ষরতা: বেতন পাওয়া আর অর্থব্যবস্থাপনা জানা এক কথা নয়।

বাজেট করা, সঞ্চয় রাখা, ঋণ সামলানো, ডিজিটাল নিরাপত্তাঝুঁকি বোঝা এবং অবসরের পরিকল্পনা করা—এসব বিষয়ে শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য। কারণ, আর্থিক সাক্ষরতাহীন অন্তর্ভুক্তি অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক সমাধানমাত্র।

তৃতীয়ত, ডিজিটাল বেতনকে সম্পদ গঠনের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া: বেতনের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যদি ক্ষুদ্র সঞ্চয়, মাইক্রো ইনস্যুরেন্স বা পেনশনে অর্থ যুক্ত হয়, তবে তা শ্রমিকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

চতুর্থত, পোর্টেবল সামাজিক সুরক্ষাকাঠামো: একজন শ্রমিক কারখানা বদলালেও যেন তাঁর সঞ্চয়, বিমা ও সুবিধা বহাল থাকে—এমন জাতীয় কাঠামো ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর একটি হতে পারে।

এ ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রেমিট্যান্স কেবল পরিবারের খরচ মেটানোর উৎস নয়, সঠিক নীতিসহায়তা পেলে এটি সম্পদ গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। প্রবাসী পরিবারের জন্য সঞ্চয়, বিনিয়োগ–সুবিধা, স্বাস্থ্যবিমা ও দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনমুখী উপযুক্ত আর্থিক পণ্যের সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



Source link