মমতার এ ঘোষণা অবশ্য কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করবে না। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ৭ মে। তারপর মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। পদত্যাগ না করলেও তিনি হয়ে যাবেন ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’। তখন তাঁর ইস্তফা দেওয়া না–দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বহীন ও অর্থহীন হয়ে যাবে। দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জেতা বিজেপির পরিষদীয় দল যাঁকে নেতা নির্বাচন করবে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

বৃহস্পতিবারের পরদিন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে একরকম। না নিলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রাজ্যপাল প্রশাসনের শীর্ষে থাকবেন। শোনা যাচ্ছে, আগামী শনিবার, ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। অতঃপর প্রশ্ন, কী করবেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা? আহত বাঘিনীর মতো রুখে দাঁড়াবেন, নাকি বয়সের ভারে ভাগ্যকে মেনে অবসন্ন হৃদয়ে ধীরে ধীরে সরে যাবেন পাদপ্রদীপের আলো থেকে? প্রশ্নটি আলোচিত হচ্ছে।

এটা এখন মোটামুটি নিশ্চিত, এখনই রাজ্যে মাথা তুলে দাঁড়ানো মমতার পক্ষে অসম্ভব। বিপুল রায়ের পর জন–অসন্তোষ, বিজেপির সর্বভারতীয় শক্তি এবং অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীক্ষ্ণ নজরদারি মমতা ও তাঁর দলকে দাবিয়ে রাখবে। তাঁর সামনে বিচরণের একমাত্র আঙিনা সর্বভারতীয় রাজনীতি। সেখানে কোন ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে, সময় তা জানিয়ে দেবে।



Source link