কর্মসংস্থানের অভাবই প্রধান কারণ

বিভাগের নগর-দারিদ্র্য নিয়ে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, এনজিও প্রতিনিধি এবং যাঁরা এ বিষয়ে খোঁজ রাখেন, তাঁদের অন্তত ১৫ জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলছেন, নদীভাঙন উত্তরাঞ্চলের নগর-দারিদ্র্য সৃষ্টির একটি কারণ। তবে প্রধান কারণ নয়।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহানা আখতার বলেন, কাজের জন্য নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও আশপাশের জেলার মানুষ রংপুর শহরে ভিড় করছেন। এতে শহরের মানুষের কাজের অভাবে পড়ে।

শাহানা আখতারের কথায় মিল পাওয়া যায় শহরের রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, পান দোকানদারসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্পৃক্ত অনেকের সঙ্গে কথা বলে। পূর্ব গণেশপুরে ভাড়া থাকেন রিকশাচালক মহির আলী (৫০)। বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর একতাবাজারে। বললেন, ‘বাড়িত যদি কাজ থাকিল হয়, বিদ্যাশ না খাটনু হয়।’

নগরের অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের পেছনেও কর্মসংস্থানের অভাবই কারণ বলে মনে করেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুদ্দীন খালেদ। তাঁর মতে, নগরে প্রতিদিন হাজার হাজার ইজিবাইক চলছে। কিন্তু ইজিবাইকগুলোতে যাত্রী থাকে দুই-তিনজন। অর্থাৎ কাজের সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ উপায়হীন হয়ে ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণার তথ্যমতে, দেশে নগর এলাকার কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক। রংপুরের ক্ষেত্রে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক কর্মস্থানের সঙ্গে যুক্ত।



Source link