গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ গড়ে প্রতি কয়েক মিনিটে অন্তত একবার দীর্ঘশ্বাস নেয়। তবে সবসময় মানুষ তা খেয়াল করে না। অর্থাৎ এটি শুধু আবেগের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং শরীরের স্বয়ংক্রিয় একটি রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া।

এবার আসা যাক স্নায়ুতন্ত্রে। আমাদের শরীরে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ কাজ করে। সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক। প্রথমটি আমাদের সতর্ক করে, দ্বিতীয়টি শরীরকে শান্ত করে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

চাপ বা উদ্বেগের সময় সিমপ্যাথেটিক সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। হার্টবিট বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয়, পেশি টান টান হয়ে যায়। এমন অবস্থায় একটি দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে প্যারাসিমপ্যাথেটিক কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের ভেতরের উত্তেজনা কমতে শুরু করে। হার্টবিট স্বাভাবিকের দিকে আসে, পেশির টান কমে, শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়। এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলোই আমাদের মনে আরাম বা প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে।

দীর্ঘশ্বাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের ধরন বদলে দেয়। উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার সময় আমরা সাধারণত অগভীর ও দ্রুত শ্বাস নিতে থাকি। এতে শরীর আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে, একধরনের চক্র তৈরি হয়; যেখানে অগভীর শ্বাস আবার উদ্বেগ বাড়ায়।

একটি দীর্ঘশ্বাস সেই চক্র ভেঙে দেয়। এটি শ্বাসকে গভীর করে, ধীর করে। ফলে শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া কিছুটা কমে আসে এবং মস্তিষ্কে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একধরনের রিসেট সিগন্যাল।



Source link