নদীর ‘দানব’
মহাশোল কিন্তু ছোটখাটো মাছ নয়, একেবারে দানব বলা যায়! বড় হলে ২০-৩০ কেজি পর্যন্ত ওজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি।
ভাবতে পারো? তোমার পুরো স্কুলব্যাগের চেয়ে ভারী একটা মাছ!
এ কারণেই অনেক জায়গায় একে ‘নদীর রাজা’ বলা হয়। বিশেষ করে ভারত, নেপাল বা ভুটানের পাহাড়ি নদীতে মহাশোল ধরার জন্য আলাদা রোমাঞ্চ আছে। একে ধরা মানে শুধু মাছ ধরা নয়—একটা চ্যালেঞ্জ জেতা। কারণ, এই মাছ খুব শক্তিশালী। হুক লাগলে সহজে ধরা দেয় না। উল্টো জেলের সঙ্গে লড়াই করে। তাই এটি ‘গেম ফিশ’ হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়।
বাংলাদেশের নদী আর মহাশোলের গল্প
বাংলাদেশেও একসময় মহাশোল ছিল। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের নদী আর উত্তরাঞ্চলের কিছু স্রোতস্বিনী নদীতে।
আর একটা মজার ব্যাপার হলো এই মাছ আজও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে নেত্রকোনার বিরিশিরি অঞ্চলের পাহাড়ি ঝরনা ও নদীতে মাঝেমধ্যে মহাশোল পাওয়া যায়। সেখানকার ঠান্ডা, পরিষ্কার পানিতে এরা কোনোভাবে টিকে আছে।
এই বিরিশিরি থেকেই কখনো কখনো বাজারে চলে আসে মহাশোল। ঢাকার কিছু বাজারে, বিশেষ করে অভিজাত বা বিশেষ মাছের দোকানে, মাঝেমধ্যে দেখা যায় এই মাছ।
আর সেখানেও একটা নাম খুব শোনা যায়—‘লাল পাখনা মহাশোল’। এই ধরন দেখতে একটু আলাদা। পাখনায় লালচে আভা থাকে, যা একে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
কিন্তু সমস্যা হলো, এসব দেখা এখন খুবই বিরল। একে বলা যায় ‘ভাগ্য থাকলে দেখা মেলে’ এমন মাছ।
