এবার কথা বলতে শুরু করেন অনন্ত কুমার। জানান, তাঁদের বাড়িতে যে কুয়া ছিল, সেটির ইট তুলে দুটি ঘরের গাঁথুনি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এটাও বললেন, ‘এল্যা কিচ্ছু নাই। কিছু জমি নদীগর্ভে গেছে। কিছু দায়-দয়রাত করি দিছি। পাখিদের যা খাওয়াই, আমিও তাই খাই। না খাওয়া পর্যন্ত নিজেও খাই না। এটা আমার প্রতিজ্ঞা। আমার হিস্ট্রি বহু। আমি সম্পদ হারিয়েছি বাবা; ভালোবাসা নিয়া আছি, এটাই যথেষ্ট। বাকি জীবনটা ওইভাবে যাক। দুঃখও নাই, কষ্টও নাই।’

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রেম করে বিয়ে করার পর অন্তত কুমারের পরিবার মেনে নেয়নি। অন্নদানগরে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী পূর্ণিমা রানীসহ থাকেন। ওই সময় রেলস্টেশনে আড্ডা দিতেন। তখন রেলস্টেশনে খাবার সংগ্রহে আসা পাখিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়। তখন তিনি পাখিকে খাওয়ানো শুরু করেন। অনন্ত কুমার বলেন, আগে তাঁর স্ত্রী বাড়িতে রুটি করে দিতেন। স্টেশনে এসে পাখিকে ‘আয়, আয়’ করে ডাকতেন। এখন ডাকা লাগে না। তাঁকে রাস্তায় দেখলে পাখি চলে আসে।

১৯৭০ সালে পাশের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন অনন্ত কুমার। চায়ের দোকানে বসা অন্নদানগরের বাসিন্দারা জানান, তখন থেকে বন্ধুবৎসল ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফেরার পর বন্ধুদের সঙ্গে গানবাজনা করে মাতিয়ে রাখতেন, বিশেষ করে গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়েতে সহায়তা করতেন। এমনও হয়েছে নিজের সম্পদ বেঁচে এলাকার হিন্দু-মুসলমানের মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

অনন্ত কুমার অবশ্য বলেন, তখন মেয়েদের বিয়েতে যৌতুক ছিল বেশি। বেশির ভাগ কৃষক ও শ্রমজীবী বাবা ছিলেন কন্যাদায়গ্রস্ত। বর-কনে সাজানো ছিল তখনকার জন্য ব্যয়বহুল। তাঁর অনেক বন্ধু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কিন্তু দেননি। এ জন্য তিনি ওসব পরিবারের দায়িত্ব নেন। তাঁর হিসাবে এ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব নিয়ে ৮৫ জন দরিদ্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।



Source link