অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ইচ্ছেমতো ময়লার বিল আদায়ের বিষয়ে অবগত আছেন বলে প্রথম আলোকে জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যে যার মতো করে পেশিশক্তির মাধ্যমে হোক বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে হোক, একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ম ও শর্ত মেনে বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহের কাজটি শুরু করা গেলে বিশৃঙ্খলা কমে আসবে। বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ করার বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি পক্ষ রিট করেছে। রিটকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তখন ময়লা সংগ্রহের কাজটি একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি করা গেলে বিশৃঙ্খলা থাকবে না।
আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের শাসনামলে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন দলটির নেতা-কর্মীসহ তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। এ নিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোয় ‘রাজধানীতে ৪৫০ কোটি টাকার ময়লা-বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীবাসীকে জিম্মি করে বছরে অন্তত ৪৫০ কোটি টাকার ময়লা-বাণিজ্য করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের লোকজন। সেদিন প্রথম পাতার পাশাপাশি ভেতরের পাতাতেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিবেদনেও ময়লা-বাণিজ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এখন ময়লা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন দলটির কিছু নেতা-কর্মী।
