চিনি ও মধুর মধ্যে তুলনা করতে হলে আমাদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআইয়ের সাহায্য নিতে হবে। জিআই দিয়ে মাপা হয়, কোনো খাবার কত দ্রুত আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ সাদা বা রিফাইন্ড চিনির জিআই হলো ৬৫। অন্যদিকে মধুর জিআই নির্ভর করে এর উৎসের ওপর। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যের সিদর গাছের ফুলের মধুর জিআই মাত্র ৩২। আবার গ্রিসের থাইম ফুলের মধুর জিআই ৮৫ পর্যন্ত হতে পারে!
এই পার্থক্যের মূল কারণ, মধুতে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের অনুপাত। গ্লুকোজ খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, কিন্তু ফ্রুক্টোজ বাড়ায় না। সাদা চিনির জিআই সবসময় একই থাকে, কারণ এতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ সমান অনুপাতে মিলে সুক্রোজ হিসেবে থাকে। কিছু মধুর জিআই কম হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, এগুলোতে ফেনোলিক অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো চমৎকার কিছু উপাদান থাকে, যা আমাদের অন্ত্রে গ্লুকোজ শোষণের হার কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে, যা ক্যানসার বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমায়। তবে সত্যি বলতে, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়ার জন্য প্রচুর মধু খাওয়ার চেয়ে তাজা ফলমূল বা শাকসবজি খাওয়াই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ!
