শীতলপাটি তৈরি হয় শীতলপাটিগাছ থেকে। সে গাছগুলো এখন চোখের সামনে দেখছি। আগেও অনেকবার দেখেছি, তবে এ রকম পুষ্পশোভিত রূপ কখনো চোখে পড়েনি। টাঙ্গাইল ও সিলেটের স্থানীয় ভাষায় এ গাছকে বলা হয় মুর্তা বা মূর্ত্তা; অন্য নাম পাটিপাতা, পাটিবেত, মুক্তাপাতাগাছ। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নাম পাটি-জং, বরিশালে নাম পাইটরাবন। নোয়াখালীতে এর নাম মোস্তাক। এ গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Schumannianthus dichotomus, ম্যারান্টেসি গোত্রের গাছ। মুর্তাগাছের ইংরেজি নাম ‘কুলম্যাট’। গাছগুলো দেখতে বাঁশের কঞ্চির মতো, গাঢ় সবুজ, শক্ত, গিঁটওয়ালা ও শাখায়িত একধরনের বহুবর্ষজীবী গুল্ম। তিন থেকে পাঁচ মিটার লম্বা হয়। গাছের গোড়ায় আদার মতো মোথা বা রাইজোম জন্মে। সে কন্দ থেকেই গাছ হয়।

পাতা উপবৃত্তাকার, সূক্ষ্মাগ্র, চকচকে ও গাঢ় সবুজ। পুষ্পমঞ্জরি সরল, কখনো মঞ্জরিদণ্ডের নিচ থেকে শাখা বের হয় ও তাতে বসন্ত-গ্রীষ্মকালে ফুল ফোটে। ফুল সাদা, পাপড়িগুলো সরু, আয়তাকার, অগ্রভাগ গোলাকার বা ভোঁতা। নিচু ও ডোবা, ছায়াময় স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এ গাছ হয়।



Source link