ওই গ্রামের আরেক কারিগর লাকি বেগম বলেন, টুপির দুটি অংশ থাকে। নকশা তোলার পর তা মহাজনের কাছে পাঠানো হয়। সাধারণত টুপির ওপর ও নিচের দুটি অংশে বিভিন্ন রঙের রেশমি সুতা দিয়ে প্রচুর কারুকাজ করা হয়। কাজ শেষ হলে গ্রামের নারীদের মজুরি পরিশোধ করে টুপিগুলো নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। নতুন কাজের জন্য দিয়ে যান কাপড় ও সুই-সুতা। নকশাভেদে এসব টুপি হয় দুই রকম। হাফ দানা ও ফুল দানা। একটি হাফ দানা টুপির নকশার মজুরি ৫৫০ টাকা, আর ফুল দানার মজুরি ৪৫০ টাকা।
ঢাকার টুপি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইটাকুমারী ইউনিয়নের চার গ্রামের নারীদের নকশা করা টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠাই। কাপড়ভেদে সেখানে প্রতিটি টুপি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।’
ইটাকুমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, আগে এ গ্রামের নারীরা শ্বশুরবাড়িতে নানা নির্যাতনের শিকার হতেন। এখন রোজগার করায় শ্বশুরবাড়ির সবার ভালোবাসা পাচ্ছেন। টুপিতে নকশার কাজ করে এসব গ্রামের নারীরা বাড়তি আয় করছেন।
পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক আজ শনিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই সব গ্রামের নারীরা টুপিতে নকশার কাজ করে তাঁদের ভাগ্যের বদল করেছেন। আমি তাঁদের নকশার কাজ সচক্ষে দেখেছি।’
