হৃৎপেশিকোষ যদি ভাবত—‘ধুর, আমি তো মরেই যাব, ভবিষ্যতে তো যাব না, তবে এত খেটে লাভ কী?’—তাহলে কী হতো? তাহলে আমি জন্মাতাম না। ভালোবাসতে পারতাম না। বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে পারতাম না। এই বিকেলের বরফের ওপর পড়া সুন্দর রোদটুকু দেখতে পেতাম না।

আমার এই ৩০ ট্রিলিয়ন দেহকোষের নিজস্ব কোনো চেতনা আমার কাছে নেই, কিন্তু তারা সবাই মিলে জন্ম দিয়েছে আমার এই চেতনার। আমাকে দিয়েছে একটি ‘আমি’ সত্তা। তাহলে আমরা সবাই মিলে কী গড়ছি? আমরাও কি এই মহাবিশ্বের বিশাল কোনো সমষ্টিগত চেতনার একেকটা কোষ? আমার শরীরের কোষগুলো যেমন আমার চেতনাকে চেনে না, জানেই না আমি কে—আমরাও কি তেমনি এমন কোনো মহাজাগতিক সত্তার অংশ, যার সঙ্গে আমাদের কোনো দিন কথা হবে না?

রকেট যখন ওড়ে, তার মাথায় থাকে ছোট্ট একটি ক্যাপসুল বা ‘পেলোড’—যেটা মহাকাশে যায়। আর নিচে থাকে বিশাল সব বুস্টার, জ্বালানিট্যাংক। ওড়া শুরু হলে নিচের সেই বিশাল বুস্টারগুলো প্রচণ্ড শক্তিতে জ্বলে ওঠে। নিজেদের সবটুকু জ্বালানি পুড়িয়ে, ধ্বংস হয়ে যায়—কেবল একটা কারণে: ওপরের ছোট্ট ক্যাপসুলটাকে মাধ্যাকর্ষণের বাইরে ঠেলে দিতে। কাজ ফুরোলেই সেই বিশাল বুস্টারগুলো খসে পড়ে সাগরে। তারা মহাকাশ দেখে না। কিন্তু তাদের এই আত্মাহুতির জন্যই ক্যাপসুলটা তার গন্তব্যে পৌঁছায়।

আমি জানি না এই মহাবিশ্বের গন্তব্য কোথায়, কিন্তু নিজেকে আমার মনে হয় কোনো এক মহাজাগতিক রকেটের ক্ষুদ্র একটা বুস্টার। দেহকোষদের মতোই নিজেদের ধ্বংস অনিবার্য জেনেও আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। পাশের কোষদের জানিয়ে যাচ্ছি, ‘ভয় নেই। আমরা আছি, তুমি বিভাজিত হতে পারো।’

আমার হৃৎপিণ্ড, কিডনি, রক্তের সেই কোষগুলোর জন্য এটুকুই যথেষ্ট। এটুকুই অর্থবহ।

লেখক: পিএইচডি গবেষক, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, যুক্তরাষ্ট্র

সূত্র: ১. Graham FL, Smiley J, Russell WC, Nairn R. “Characteristics of a human cell line transformed by DNA from human adenovirus type 5.” Journal of General Virology, 1977; 36(1): 59–74.

২. Shaw G, Morse S, Ararat M, Graham FL. “Preferential transformation of human neuronal cells by human adenoviruses and the origin of HEK 293 cells.” FASEB Journal, 2002; 16(8): 869–871.

৩. Lin Y-C, Boone M, Meuris L, et al. “Genome dynamics of the human embryonic kidney 293 lineage in response to cell biology manipulations.” Nature Communications, 2014; 5: 4767.

৪. “Live and Let Live: The Remarkable Story of HEK293 Cells” (ফ্রাঙ্ক গ্রাহামের সাক্ষাৎকার). Human Gene Therapy, 2020; 31(13–14).

৫. Hayflick L, Moorhead PS. “The serial cultivation of human diploid cell strains.” Experimental Cell Research, 1961; 25(3): 585–621. (কোষ-বার্ধক্য ও হেফ্লিক সীমা)

৬. Greider CW, Blackburn EH. “Identification of a specific telomere terminal transferase activity in Tetrahymena extracts.” Cell, 1985; 43(2): 405–413. (টেলোমারেজ আবিষ্কার)

৭. Weismann A. Das Keimplasma: eine Theorie der Vererbung (The Germ-Plasm: A Theory of Heredity). Jena: Gustav Fischer, 1892. (জননকোষ-ধারা বনাম দেহকোষের ধারণা)

৮. Bianconi E, Piovesan A, Facchin F, et al. “An estimation of the number of cells in the human body.” Annals of Human Biology, 2013; 40(6): 463–471. (দেহে কোষের সংখ্যা ~৩৭ ট্রিলিয়ন)

৯. Azevedo FAC, Carvalho LRB, Grinberg LT, et al. “Equal numbers of neuronal and nonneuronal cells make the human brain an isometrically scaled-up primate brain.” Journal of Comparative Neurology, 2009; 513(5): 532–541. (মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা ~৮৬ বিলিয়ন)

১০. Alberts B, Heald R, Johnson A, et al. Molecular Biology of the Cell, 7th ed. New York: W. W. Norton, 2022. (প্যারাক্রাইন সংকেত ও কোষ-ঘনত্বনির্ভর বিভাজন)



Source link