‘সামরিক নির্গমনের’ তথ্য লুকোচুরি

ঐতিহাসিকভাবে বৃহৎ কার্বনদূষণের জন্য দায়ী আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে চীন আজ হয়ে উঠেছে বৃহৎ দূষণকারী। বৈশ্বিক মোট কার্বন নির্গমনের ৩২ ভাগ একাই করে চীন, আমেরিকা ১৩ ভাগ। জনপ্রতি কার্বন নির্গমনের হার সবচেয়ে বেশি কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে।

বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট (২০২২)’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মূন্য দশমিক ৪ ভাগ নির্গমন করে বাংলাদেশ। এত কম নির্গমন করেও বাংলাদেশের উপকূলের গরিব নারীরা কেন আজ তীব্র লবণাক্ততার কারণে তাঁদের জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন? কিংবা বছর বছর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া হাওরের গ্রাম থেকে কেন আজ উদ্বাস্তু হচ্ছে তরুণ কৃষক? কোনো জলবায়ু সম্মেলন এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বৈশ্বিক দলিলে সচরাচর গোপন করা হয় অস্ত্র কারখানা, যুদ্ধসহ সামগ্রিক সামরিক খাতের দূষণ। এক হিসাবে দেখা যায়, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের মোট নির্গমনের ৫.৫ ভাগ হলো সামরিক খাতের নির্গমন।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সামরিক নির্গমন বা মিলিটারি ইমিশনের তথ্য প্রকাশকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি, স্বেচ্ছামূলক কাজ হিসেবে রাখা হয়েছে। বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণে কোনো রাষ্ট্রই সামরিক নির্গমনের তথ্য প্রকাশে দায়দায়িত্ব বোধ করে না। অনেক রাষ্ট্র আবার সামরিক নির্গমনের তথ্য প্রকাশকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেও দেখে। আর এই ‘মিলিটারি ইমিশন গ্যাপ’ জলবায়ু-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিশ্বমঞ্চকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএফসিসিসি ধনী ও অধিক কার্বন নিঃসরণকারী রাষ্ট্রগুলোকে অ্যানেক্স-১ হিসেবে তালিকাবদ্ধ করেছে। যদি সামরিক নির্গমন প্রদর্শন বাধ্যতামূলকও হয়, তবে কেবল অ্যানেক্স-১ তালিকাভুক্ত মাত্র ৪৩ দেশকে এটি দেখাতে হবে। কিন্তু বৃহৎ সামরিক খাত ও ব্যয় থাকা সত্ত্বেও কেবল নন-অ্যানেক্স–১ তালিকাভুক্ত রাষ্ট্র হওয়ায় চীন, ইসরায়েল, সৌদি আরব কিংবা ভারতকে সামরিক নির্গমনের তথ্য হয়তো প্রকাশ করতে হবে না।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) নীতিমালা অনুযায়ী নির্গমনের উৎস ও খাতগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরি কোডে বিন্যস্ত। সেখানে সামরিক খাত থেকে নির্গমনকে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। নিঃসরণ না লুকিয়ে নির্গমনের সব খাত ও উৎসভিত্তিক তথ্য–উপাত্ত পাবলিক পরিসরে উত্থাপন করা দরকার।



Source link