উত্তর
ক. সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চে অবস্থিত বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে।
খ. ৬০০ থেকে ১০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে। যেমন ময়মনসিংহের গারো পাহাড়। পক্ষান্তরে ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে। যেমন ভারতের বিন্ধ্যা পর্বত। পাহাড় সাধারণত গম্বুজাকৃতির হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে পর্বত দীর্ঘ ও সংকীর্ণ বা চূড়াবিশিষ্ট হয়।
গ. উদ্দীপকের ‘ক’ চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমি, যা প্লাইস্টোসিন যুগের অন্তর্গত।
আজ থেকে পাঁচ লাখ বছর আগে বরফ যুগের পরোক্ষ প্রভাবের ফলে প্লাইস্টোসিন যুগের ভূপ্রকৃতির সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশের উত্তর–পশ্চিমাংশের সুবিশাল বরেন্দ্রভূমির সঙ্গে মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং লালমাই পাহাড়ের ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়। বরেন্দ্রভূমির মাটির রং অনেকটা হলুদ থেকে লালচে হলুদ। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল এলাকাকে মধুপুর গড় এবং ঢাকা ও গাজীপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ভাওয়াল গড়ের মাটির রংও লাল ও কাঁকরময়। এ এলাকায় আনারস, কাঁঠাল, পেয়ারা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়। আবার কুমিল্লা শহরের আট কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই পাহাড় অবস্থিত। এখানকার মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি প্রভৃতি দ্বারা গঠিত। এ পাহাড়ের পাদদেশে আলু, তরমুজ ইত্যাদির চাষ হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বরেন্দ্রভূমির মাটির রং যেমন লাল, তেমনি মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং লালমাই পাহাড় এলাকার মাটির রংও লাল। উপরন্তু বাংলাদেশের এ তিনটি অঞ্চল প্লাইস্টোসিন যুগের চত্বরভূমি। সুতরাং উক্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।
