‘কর্তব্য’ সিনেমায় সাইফের সংলাপের টানে কখনো অতিরিক্ত পুরুষালি ভঙ্গি এলেও চরিত্রটির ভেতরের অস্থিরতা তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পবন চরিত্রটি যেন ভেতরে–ভেতরে ফুটতে থাকা এক আগ্নেয়গিরি। তার রাগ, হতাশা আর পিতৃত্ববোধ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন এক নায়ক, যে একই সঙ্গে ভঙ্গুর ও ভয়ংকর। এই চরিত্র কিছুটা মনে করিয়ে দেয় কিছুদিন আগেই অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়া ‘সুবেদার’ সিনেমার অনিল কাপুরকে—যে ছোট শহরের রাজনৈতিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে একা লড়েছিল। তবে অনিল কাপুর যেখানে মাথা উঁচু করে বাঁচার দাবি তুলেছিলেন, সেখানে সাইফ আলী খানের পবন যেন অন্য কথা বলে—আবার সত্যিকারের বাঁচতে হলে আগে কিছুটা মরতে জানতে হবে।

 ‘হরপাল’ চরিত্রে চমকে দিয়েছেন যুধবীর আহালওয়াত। হরপালের অসহায়ত্ব, ভয়, ক্ষোভ ও মানসিক ভাঙন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যুধবীর।

কিন্তু অভিনয়ে সৌরভ দ্বিবেদী দুর্বল। জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তিনি দর্শকের আগ্রহ টানতে পারেন, কিন্তু ক্যামেরার সামনে অভিনয় শুধু হাত নেড়ে কথা বলা বা কণ্ঠস্বর বদলানোর বিষয় নয়। এটি পুরো শরীর ও অনুভূতির সমন্বয়। গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে পরিচালক তাঁকে আড়াল করতে ক্যামেরা পেছনে সরিয়ে নেন, কিন্তু সেই কৌশল স্পষ্ট ধরা পড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তাঁর চরিত্রটিকে পূর্ণতা দেওয়া হয়নি। শিশুদের ব্যবহার করে ভয়ংকর অপরাধ চক্র চালানো একজন ধর্মগুরুর ভেতরের জগৎ বা উদ্দেশ্য কখনোই গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি। সেই কারণেই সিনেমায় সাইফের সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়ায় না।

আর সে কারণেই ‘কর্তব্য’ শেষ পর্যন্ত ভালো কিন্তু ‘ওয়াও’ হয়ে ওঠে না।



Source link