যাঁদের নিয়ে এই প্রদর্শনী, তাঁরা হলেন মাজেদা বেগম, শেখ জাহিদ, আনোয়ার হোসেন, সোনারুদ্দি, ইসমাইল হোসেন, আবদুর রহিম, সানাউল্লাহ, আউয়াল হোসাইন, মোহাম্মদ নাসির, আবদুল হাই, গোলাম আজম, মোহাম্মদ হারুন ও মো. আলমগীর। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়নি। তবে কিছু কিছু বিবরণ ও তাঁদের অনুভূতির কথা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে তাঁদের কেউ কেউ ৮ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ফাঁসির আসামির কনডেমড সেলে কাটিয়েছেন মৃত্যুভয়, উদ্বেগ আর দুর্বিষহ যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে। অবশেষে দীর্ঘ আইনি যুদ্ধ শেষে তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। কারামুক্ত হয়ে কনডেমড সেল থেকে ফিরে এসেছেন পরিবারের কাছে। মোশফিকুর রহমান শতাধিক আলোকচিত্রে তাঁদের জীবনের নিদারুণ গল্প নিয়ে এলেন দর্শকদের সামনে। প্রদর্শনীর কিউরেটর আলোকচিত্রী হাদি উদ্দিন।

প্রদর্শনীতে কনডেমড সেল থেকে ফিরে আসা মানুষদের ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের যন্ত্রণা, উদ্বেগ। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ের ছবি। মুক্তির পরে তাঁদের কেউ কেউ তাঁদের বাড়ির পাশের প্রিয় স্থানগুলোতে ঘুরে দেখছেন, তাকিয়ে আছেন মুক্ত আকাশের দিকে, কিছু ছবি আছে প্রতীকধর্মী। বন্দী অবস্থা ও মুক্তির ইঙ্গিতময়। কেউ কেউ ফিরেছেন জীবিকার কাজে। এসব ছাড়াও আছে ঢাকার নাজিরা বাজারের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের কিছু দৃশ্য। ভবনের সংকীর্ণ সিঁড়ি। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা কনডেমড সেল। তার ভেতরের অবস্থা। সেখানে একজন মানুষের কোনোরকমে শুয়ে থাকার মতো স্থান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ব্যবহৃত থালা, বাটি, মগ ইত্যাদি। দুটি ফাঁসির মঞ্চের বিশালকায় ছবি আছে প্রদর্শনী কক্ষের মাঝবরাবর। অনেকের প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সেখানে। এর চারপাশের দেয়ালজুড়ে রয়েছে ফাঁসির দড়ি থেকে ফিরে আসা মানুষদের ছবিগুলো।



Source link