বিশ্বকাপ ফুটবল চলমান থাকবে প্রায় এক মাস। এই মাসখানেক বাঙালিরা বিশ্বকাপ–আনন্দে বুঁদ হয়ে থাকে। সময়ের সেরা ফুটবলার এমবাপ্পে, কেইন, ইয়ামাল প্রমুখদের সঙ্গে মেসি, রোনালদো, নেইমার, মদরিচ—শেষ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সঙ্গে সেরা তারকাদের শৈল্পিক কারুকার্য ও মাঠের সবুজের ক্যানভাসে দৃষ্টিনন্দন—সব গোল উৎসবে মাতোয়ারা হয় সাধারণ মানুষ। বিশ্বকাপ ফুটবল হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষের জন্য আয়োজিত বিজ্ঞাপন। এর মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে খেলার বিনোদনের মাধ্যমে সবাইকে একসুতোয় গাঁথা। তবে দিনশেষে মনে রাখতে হবে, এটি নিছক খেলা। খেলাকে খেলার জায়গায় রাখাই বরং শ্রেয়। কারণ, প্রকৃত পক্ষে আমরা বাঙালিরা ঐতিহাসিকভাবে আবেগপ্রবণ। তাই বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রিয় দলের সমর্থনে যেকোনো তর্ক, মতভেদের বিপক্ষে গিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্কে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশে পতাকা টাঙানোর হিড়িক পড়ে। এই পতাকাগুলো টাঙানো বা খেলা শেষে সরিয়ে ফেলার সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ইত্যাদিতে না পেচিয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তা না হলে পরবর্তীকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, যার জন্য নিজেকে শুধু এই ক্ষতির ভারবহন করতে হবে। তাই খেলাকে খেলার স্থানে রেখে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না হয়ে উপভোগ করুন বিশ্বকাপ ফুটবল, যাতে উবে যায় জীবনের ক্লান্তি ও বিষণ্নতা।

লেখক: শাহ মুনতাসির হোসেন মিহান, এমএসএস শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়



Source link