চীনা পর্যটকেরা এখন বাংলাদেশেও আসতে শুরু করেছেন। কক্সবাজারে চীনা ট্যুরিস্ট দলের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাঁরা সৈকত দেখে মুগ্ধ (চীনে এত দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত নেই!), ইলিশ মাছ ভাজা খেয়ে অবাক, রিকশায় চড়ে ছবি তোলেন। আর বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও চীন ধীরে ধীরে সহজ হচ্ছে—কুনমিং, বেইজিং, গুয়াংঝৌ থেকে সরাসরি ফ্লাইট, ভিসাপ্রক্রিয়ায় ছাড়, ছাত্র বিনিময় প্রকল্প।

চীনা সরকারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশে পদ্মা সেতু রেল লিংক, কর্ণফুলী টানেল এগুলো শুধু অবকাঠামো নয়; বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর রাস্তা। যে চীনকে আমি ভালোবাসি, সে চীন শুধু ইকোনমিক পার্টনার নয়, সে এক শিক্ষক, এক বন্ধু। আর পর্যটন এই বন্ধুত্বের সবচেয়ে মানবিক, সবচেয়ে কোমল মাধ্যম। যখন একজন সাধারণ চীনা কৃষক ইউনানের জমিতে দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশি ছাত্রকে আপন ভাইয়ের মতো চা খাওয়ান, তখন কোনো রাষ্ট্রীয় চুক্তির দরকার পড়ে না কূটনীতি বুঝতে।

শেষ কথা: যে চীন আমার চোখে বাসা বেঁধেছে

২০২৬ সালের এই বসন্তে, নানজিং ইউনিভার্সিটি অব অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকসের ল্যাব থেকে বের হয়ে যখন ক্যাম্পাসের চেরি ফুলের গাছগুলোর নিচে দিয়ে হাঁটি, তখন ইদানীং খুব বেশি করে মনে পড়ে ২০১৮ সালের সেই কুনমিংয়ের সকালটা। আট বছরে চীন আমাকে অনেক দিয়েছে—ডিগ্রি, ক্যারিয়ার, বন্ধু, ভাষা, এক নতুন করে বাঁচার সাহস। কিন্তু তার চেয়েও বড় উপহার হলো, চীন আমাকে তার সভ্যতার জানালা দিয়ে উঁকি মারতে দিয়েছে। আর আমি সেই উঁকি থেকে একটি গোটা জগৎ খুঁজে পেয়েছি।

আপনি যদি কখনো চীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, একটা ছোট্ট অনুরোধ রাখি: শুধু ক্যামেরার লেন্স দিয়ে নয়, একটু খোলা মন নিয়ে যাবেন। গ্রেট ওয়ালে দাঁড়িয়ে শুধু সেলফি নয়, চোখ বন্ধ করে কল্পনা করবেন সেই সৈন্যদের কথা, যাঁরা শীতের রাতে পাহারায় দাঁড়িয়ে বাড়ির কথা ভাবতেন। পশ্চিম হ্রদের পাড়ে বসে শুধু চা নয়, কবি সু দোংপোয়ের কবিতার একটা লাইন খুঁজবেন মনে মনে। সাংহাই বান্ডে দাঁড়িয়ে এক পাশের ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের নিদর্শন, আর অন্য পাশের আধুনিকতার গর্ব—দুই-ই একসঙ্গে অনুভব করবেন।



Source link