আজ দেশের বিভিন্ন শহর ও জেলায় পরিচালিত হচ্ছে এই সেবা। বিশেষভাবে তৈরি বাসে রাখা হয় সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ, শিশুতোষ ও সমকালীন নানা বিষয়ের বই। এই বইগুলো সংগ্রহ করতে প্রথমে পাঠককে এর সদস্য হতে হয়। তারপর সেই সদস্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বই ধার নিতে পারেন এবং পরবর্তী সফরে তা ফেরত দিয়ে নতুন বই সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে বই পড়ার অভ্যাস খুব সহজে গড়ে ওঠে। তবে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গুরুত্ব শুধু বই ধার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি অনেকের শৈশব–কৈশোরের স্মৃতির অংশ। নব্বইয়ের দশক কিংবা দুই হাজারের শুরুর দিকে বেড়ে ওঠা অসংখ্য পাঠকের এক রোমাঞ্চকর স্মৃতি। বন্ধুদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে বই নেওয়া, নতুন বইয়ের পাতার গন্ধ শোঁকা, আর বাসায় ফিরে গল্পের জগতে হারিয়ে যাওয়া। তখন স্মার্টফোন ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না; ছিল বইয়ের প্রতি এক নির্মল আকর্ষণ। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সেই আকর্ষণকে আরও গভীর করে তুলেছিল।

অনেকেই স্বীকার করেন, এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে তাঁদের প্রথম সাহিত্যপাঠ, প্রথম উপন্যাস কিংবা প্রথম প্রিয় লেখকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। একটি বই অনেক সময় একজন মানুষের চিন্তা, স্বপ্ন ও জীবনবোধ বদলে দিতে পারে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সেই পরিবর্তনের কারিগর। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে পাঠাভ্যাস নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি এখনো আলোর প্রদীপ হয়ে কাজ করছে। এটি মনে করিয়ে দেয়, বই কেবল জ্ঞানের উৎস নয়; বই মানুষের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে, মননকে সমৃদ্ধ করে এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা



Source link