ভাবা যায়, একটা দেশে গরিবের বিনোদনের প্রধান উৎস সিনেমা হল সম্পূর্ণ উঠে গেছে? সিনেপ্লেক্সে তো আমজনতা সিনেমা দেখতে পারবে না। সিনেমাকে শিল্প হিসেবে বাঁচাতে হলেও অবশ্যই আমমানুষের প্রেক্ষাগৃহ লাগবে, যেখানে তারা ৫০-১০০ টাকায় সিনেমা দেখবে, আবার তাতে তাদের মন প্রেমপ্রীতি, সুখ, বিরহ-বেদনার মতো মানবিক অনুভূতিতে প্রাণবন্ত থাকবে। একসময় পাড়ার ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, গ্রামের সংঘ, পাঠাগার থেকে নাটক, বিচিত্রা, খেলাধুলা হতো নিয়মিত। কখনো তারাই সাংস্কৃতিক উৎসব, রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী, শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ইত্যাদি আয়োজন করত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এসব চর্চার চল ছিল। সরকারি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের বাইরে বেশির ভাগ স্কুল-কলেজে সবই এখন বন্ধ।
আমরা জানি, সংস্কৃতিতে বরাবর গ্রহণ-বর্জনের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, তার বদল-রূপান্তর ঘটে, নতুনে-পুরোনো বিতর্ক হয়। কিন্তু এসবের ভেতর দিয়েই তা চলতে থাকে, তাকে বন্ধ করলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া হবে ভিন্ন। যে সমাজে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা অবরুদ্ধ, সেখানে মানুষ মনের ভাষা হারিয়ে দেহের ভাষার জবরদস্তিতে লিপ্ত হয়। এভাবে একটি সমাজ তার মনুষ্যত্ব হারায়। আমরা আজ সে রকম এক সংকটে, লজ্জাজনক পরিণতিতে এসে দাঁড়িয়েছি।
