ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। লক্ষ্য হিসেবে কখনো ইরানের সরকার পতন, কখনো দেশটির পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস—এমনকি ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ কথাও বলেছেন দুই দেশের নেতারা। তবে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরুর আগপর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহ হামলা চালিয়ে সেসব লক্ষ্যের একটিও অর্জন করতে পারেননি তাঁরা।

এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে চুক্তিতে পৌঁছেছে, তাতেও ট্রাম্পের অর্জন খুব কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন সমঝোতা স্মারকে ইরানের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ নেই। ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তেহরান এ বিষয়টি চুক্তিতে যুক্ত করতে রাজি হয়নি। হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ও চুক্তিতে আসেনি।

উল্টো এই সমঝোতা থেকে ইরান যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় কিছু সুবিধা করে নিতে পেরেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের অর্থ ছাড় পেতে চলেছে ইরান। যুদ্ধ–পরবর্তী ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাচ্ছে দেশটি। অবাক করা বিষয় হলো, স্মারকে সইয়ের পর ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকা ‘কিছুটা অন্যায্য’।

সব মিলিয়ে এই সমঝোতা স্মারকে সই করা ‘সহজ ছিল না’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর এ কথা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে বুধবার স্মারকে সই করার সময়ের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার চুক্তি এই প্রাসাদেই হয়েছিল। স্মারকে সইয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আবার বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।’



Source link