বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর জন্ম আজ থেকে ৪৫৪ কোটি বছর আগে। জন্মের পর কঠিন শিলা ও ইউরেনিয়ামের আকরিকগুলো তৈরি হতে কয়েক কোটি বছর লেগে গেছে। বিজ্ঞানীরা এই যে পৃথিবীর বয়স বলে দিচ্ছেন ঘড়ি-ক্যালেন্ডার ধরে, এটা সম্ভবই হতো না, যদি না তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান না থাকত।
ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটে পুরোনো ফসিল, সভ্যতা, দালানকোঠা ইত্যাদির বয়স বের করতে গিয়েও। তবে ইউরেনিয়ামের ব্যাপার এখানে অচল। তাই ফসিল, মৃতদেহ, এমনকি সভ্যতার নিদর্শনের বয়স বের করতে গিয়ে কাজে লাগানো হয় কার্বনের তেজস্ক্রিয় ধর্মকে। সাধারণ কার্বন তেজস্ক্রিয় নয়। এর একটা আইসোটোপ আছে। সাধারণ কার্বনকে বলা হয় কার্বন ১২। এর অন্য আইসোটোপটির নাম কার্বন ১৪। ১৪, কারণ, এর নিউক্লিয়াসে দুটো অতিরিক্ত নিউট্রন আছে, সেই নিউট্রন দুটোতেই ভাঙন ধরে।
কার্বন ১৪-এর পারমাণবিক ভর ১৪। আবার নাইট্রোজেনের পারমাণবিক ভর ১৪। পার্থক্য আসলে প্রোটন আর নিউট্রনের সংখ্যাতে। নাইট্রোজেনের নিউক্লিয়াসে ৭টি প্রোটন আর ৭টি নিউট্রন থাকে। অন্যদিকে কার্বন ১৪-তে থাকে ৮টি নিউট্রন আর ৬টি প্রোটন। এখানে মজার একটা ব্যাপার কথা আছে। তেজস্ক্রিয় কার্বন, অর্থাৎ কার্বন ১৪ কিন্তু অনবরত তৈরি হচ্ছে পৃথিবীতে। কীভাবে?
নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাহায্যে। সেই বিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করছে মহাকাশ থেকে আসা নিউট্রন।
মহাকাশ থেকে প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে ধেয়ে আসছে কসমিক রে। এসব কসমিক রে-তে নানা রকম কণা থাকে, তরঙ্গ থাকে। এদের মধ্যে একটা বড় উপাদান হলো নিউট্রন। এর সবচেয়ে বড় জোগানদাতা সূর্য নিজে।
