দেলোয়ার বলেন, ‘আগুন লাগার সময় আমি বাসার পানির পাম্প চালু করছিলাম। তখন একজন বলল আগুন লাগছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কোথায়? বলল ওই পারে। আমার বাসা থেকে চার-পাঁচটা বাসার পর ওই কারখানা। তারপর মিমরে কল দিলাম, রিং বাজে। দুই-তিনটা রিং হলো। মিম কল ধরে না। এদিক দিয়ে আমি দৌড়ে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করলাম। মানুষের ভিড়ে সামনের দিকে আগাতে পারলাম না আর। আমার মাইয়া আর আইব…না, আমার মাইয়াকে ওরা মাইরা ফালাইছে।’
মিমের ডাকনাম পাখি। কারখানায় সবাই তাকে পাখি নামে চেনে। বয়স আনুমানিক ১৭ বছর। তার চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। স্বামী কারাগারে। সন্তানকে শাশুড়ির কাছে রেখে বাবার সঙ্গে এখানে থেকে চাকরি করছিল মিম। এই কারখানায় তিন থেকে চার মাস কাজ করছিল। ঈদের ছুটির পর গত রোববার কাজে যোগ দেয়।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এই বাবা আহাজারি করছিলেন আর বলছিলেন, প্রতিদিন সকালে কারখানায় মেয়েকে নাশতা দিতে যেতেন। আজ মেয়ে হলুদ রঙের জামা পরে এসেছিল।
