১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৪ বছরের কিশোরী ডালিয়া কণ্ঠকে অস্ত্র করে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কলকাতায় ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’য় যোগ দিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের উজ্জীবিত করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছায়ানটের মঞ্চে আবার আমরা অসংখ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি—সবাই আমাদের বলত ‘মানিকজোড়’। মনে পড়ে বর্ষার অনুষ্ঠানে ‘শাওন আসিল ফিরে’ ডুয়েট গানটি আমরা অনেক ওপরের স্কেল থেকে (ডি-শার্পে) অনায়াসে গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলাম।
পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে কিংবা শহীদ মিনারে দেশের গান অথবা বলধা গার্ডেনের শরৎ উৎসবে মাথায় শিউলি ফুলের মালা জড়িয়ে এক রঙের শাড়িতে ‘ডালিয়া-সাদিয়া’—এই দুটি নাম প্রায় একসঙ্গেই উচ্চারিত হতো।
কৃষ্ণা চ্যাটার্জির গাওয়া দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান, ‘আয় রে বসন্ত ও তোর কিরণমাখা পাখা তুলে’ অথবা ‘আইল ঋতুরাজ সজনী’ তাঁর গলায় মাদকতা তৈরি করত। ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘সখী আমি না হয় মান করেছিনু’, বা ‘আমার নয়নে নয়ন রাখি’—এসব গানেই স্বাতন্ত্র্য ধরা পড়ত।
অসংখ্য গানের মাঝেও নজরুলের ঠুমরি অঙ্গের গান, আবার পল্লিগান বা কীর্তন ছিল তার বৈশিষ্ট্য। ছিল মিষ্টি কাজে ভরা আর নজরুলীয় গায়কি।
