বিকেলের ম্লান আলোয় সনাতন আর শামীম পাশাপাশি বসে ছিল। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, কিন্তু আজকের নীরবতা যেন পাথরের মতো ভারী। শামীমের সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য আজ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

​সনাতন বিষণ্ন গলায় হঠাৎ নীরবতা ভাঙল, ‘আচ্ছা শামীম, মানুষের এই মুখোশ কবে খুলবে রে? কেন মানুষ এই মুখোশের আড়ালে এমন সব কাজ করে যা ভাবাও যায় না?’

শামীম কোনো উত্তর দিল না। সে নির্বাক হয়ে সনাতনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার ওই অপলক চাহনিতে একধরনের শূন্যতা আর হাজারো না বলা প্রশ্ন। সনাতন দমল না, সে একই প্রশ্ন আবার করল, ‘আসলেই কি মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে? ভেতরে আর বাইরে কি মানুষের রূপ আসলেই আলাদা হয়?’

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com

শামীম এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খুব নিচু স্বরে গম্ভীরভাবে বলল, ‘সত্যিই তো… মানুষের রূপ ভেতরে আর বাইরে আলাদা হয়। আমরা যা দেখি, তা কেবল ওপরের প্রলেপ।’

​সনাতনের গলার স্বর এবার কিছুটা কেঁপে উঠল। সে শামীমের খুব কাছে সরে এসে বলল, ‘শামীম, তুই কি এমন কোনো মানুষ দেখেছিস যাকে সামনে থেকে অনেক সুন্দর, অনেক পবিত্র মনে হয়… কিন্তু তার ভেতরে এতটাই অন্ধকার যে তা বলার ভাষা আমার নেই?’

​শামীরের শরীরটা যেন একবার কেঁপে উঠল। সে কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে সনাতনের চোখের মণির দিকে তাকিয়ে রইল। তার দুই চোখের কোণে এক রহস্যময় ছায়া। সে শুধু অস্ফুট স্বরে পালটা প্রশ্ন করল, ‘তোর কি কিছু হয়েছে, সনাতন? হঠাৎ এমন কথা বলছিস কেন?’

সনাতন দৃষ্টি সরিয়ে নিল। মাটির দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল, ‘না থাক, সে তোকে পরে বলব।’ কিন্তু পরক্ষণেই আবার শামীমের চোখের দিকে তীক্ষ্ণভাবে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা, তুই কি তোর জীবনে এমন কোনো মানুষের দেখা পেয়েছিস?’

শামীম এবার একদম পাথর হয়ে গেল। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শুধু বলল, মানে? চলবে…



Source link