‘হেডবক্স’ কী
১ এপ্রিল থেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার কৃষক হাফিজুল ইসলামের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে তাবাসসুম। জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটি চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন ধরে তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানান, প্রচলিত অক্সিজেন মাস্কের অভাবে তাঁরা শিশুটির প্রয়োজনীয় কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না। পরে একটি প্লাস্টিকের বক্স ছিদ্র করে তাতে অক্সিজেন সরবরাহের নল যুক্ত করে হেডবক্স তৈরি করেন। বক্সের মুখ কাপড় বা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে ভেতরের অক্সিজেন বাইরে বেরিয়ে না যায়। ওই বক্সের ভেতরে শিশুর মাথা রেখে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
শিশুটির বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে নার্স ও স্টাফরা এই ব্যবস্থা করেছেন। এতে বাচ্চাটির কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নবজাতক বা শিশুদের জন্য ‘অক্সিজেন হুড’ বা ‘হেডবক্স’ নতুন ধারণা নয়। সাধারণত এটি স্বচ্ছ, সুরক্ষিত ও নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে তৈরি করা যন্ত্র, যেখানে নির্দিষ্ট মাত্রার অক্সিজেন, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু এখানে ব্যবহৃত পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে অক্সিজেনের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে থাকার ঝুঁকি থাকে। আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করা কঠিন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মুনায়েম প্রথম আলোকে বলেন, শিশুদের পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে রোগীরা প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাচ্ছে।
