কর্মক্ষেত্রে এখনো ফোনকলের কদর আছে। বস বা কোনো ক্লায়েন্টের কল কেটে টেক্সট করা চরম অপেশাদার আচরণ হিসেবে ধরা হয়।

তবে ওপাশে যদি নতুন প্রজন্মের কেউ থাকে, তবে নির্দ্বিধায় টেক্সট করতে পারো। কারণ, তারা নিজেরাও ফোনকলের চেয়ে টেক্সটেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

কিছু কিছু পরিস্থিতিতে টেক্সট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেমন মৃত্যু, বড় কোনো অসুখ, চাকরি চলে যাওয়া বা সম্পর্ক ভাঙার মতো খবরগুলো কখনো টেক্সটে দিতে নেই। টেক্সটে মানুষের কণ্ঠের সহানুভূতি বা আবেগ বোঝানো যায় না। আবার কেউ যদি তোমাকে পরপর ছয়বার কল করে, তবে বুঝতে হবে ব্যাপারটা জরুরি। তখনো যদি তুমি টেক্সট করে এড়িয়ে যেতে চাও, তবে সেটা রীতিমতো অন্যায়। কোনো দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাত ১১টায় কোথাও আটকা পড়ার মতো বিপদে অবশ্যই কল রিসিভ করতে হবে। যে কথা বোঝাতে তোমার ৪৭টি টেক্সট করতে হবে, তার চেয়ে দুই মিনিট কথা বলে নেওয়া অনেক সহজ ও বুদ্ধিমানের কাজ। আবার ধরো, তুমি নিজেই কাউকে বললে, ‘আমাকে পরে কল দিয়ো।’ সে যখন কল দিল, তুমি সেটা কেটে দিলে! এর চেয়ে বড় বোকামি আর কী হতে পারে?

দিন শেষে সত্যিটা হলো, ফোন কেটে দিয়ে টেক্সট করা এখন আমাদের সমাজের একটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটা অনেক সময় বেশ কাজেরও বটে। কিন্তু একই সঙ্গে এটা একধরনের নীরব অভদ্রতাও। যেখানে তোমার হাতে একটু সদয় ও ভদ্র হওয়ার সুযোগ আছে, সেখানে শুধু নিজের সাময়িক স্বস্তির জন্য কল কেটে দেওয়াটা সম্পর্কগুলোকে ধীরে ধীরে শীতল করে দেয়।

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সম্পর্ক যত গভীর হয়, মানুষের জীবন তত সুখী ও দীর্ঘায়ু হয়। আর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় কণ্ঠস্বর শোনার মাধ্যমে, শুধু টাইপ করা স্ক্রিনের অক্ষরে নয়। তাই ফোনে পরিচিত কারও নাম ভেসে উঠলে সবুজ বাটনটা স্লাইড করে হ্যালো বলে দেখতে পারো। প্রিয়জনের কণ্ঠস্বর শোনার অনুভূতিটা টেক্সটের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর!

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট



Source link